শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: কালিগঞ্জে তিন দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আ’লীগ
শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ, কালিগঞ্জ: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ ওয়াহেদুজ্জামানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান উপজেলাসহ সাতক্ষীরাবাসী। রোববার রাতে মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এদিকে, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে সোমবার বিকেলে তার মৃতদেহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাশবাহী গাড়িতে করে সাতক্ষীরা হিমঘর থেকে কালিগঞ্জে আনা হয়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ উপজেলা সোহরাওয়ার্দী পার্কে রাখা হবে। সেখানে সর্বসাধারণ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। দুপুর ১টায় তার মৃতদেহ নেওয়া হবে তার প্রিয় ‘কিছুক্ষণ’ নামক বাড়িতে। জোহরের নামাজের পর কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মহৎপুর সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
অন্যদিকে, তার মৃত্যুতে কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক প্রবীণ রাজনীতিবিদ শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের মৃত্যুতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ১৪, ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে দলীয় কার্যালয়ে শোকবই খোলা হয়েছে। এছাড়া দলের উপজেলা কার্যালয়সহ সকল ইউনিয়ন কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং সকল ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বর্ণাঢ্য রাজনৈনিক জীবনের অধিকারী জনপ্রিয় ও নির্লোভ এই মানুষটি ১৯৫১ সালে উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রাম রহিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত আব্দুল খালেক এবং মাতা মৃত মেহেনুর নেছা। তিনি ১৯৬৪ সালে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলা তার নেতৃত্বে স্বাধীন হয়। ১৯৭২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এছাড়াও তিনি কালিগঞ্জ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলিয়ে মোট ৩৮টি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন ।
রাজনীতিতে সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শুধু তার নিজ দল নয়, দল মত নির্বিশেষে সাতক্ষীরা জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এখন চলছে শোকের মাতম। চোখের জল আর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply