ঢাকাTuesday , 8 January 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ফলোআপ: সখিপুরের চেয়ারম্যান রতন হত্যাচেষ্টার একবছর অতিবাহিত আসামিরা প্রকাশ্যে, বিচারের আশায় পরিবারটি

admin ঢাকা
আপডেট: 8 January 2019, 22:28

মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন হত্যা চেষ্টার একবছর অতিবাহিত হলেও আসামিরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, হত্যা চেষ্টার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন মটরসাইকেল যোগে পারুলিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সখিপুর আব্দুর রহিমের দোকানের সামনে পৌঁছুলে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে পর পর তিনটি গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন (৪৫) গুরুতর আহত হন। এতে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন বুকের ডানপাশে পাজড়ের নিচে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরদিন বুধবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় তাকে।
২ জানুয়ারিই ঘটনাস্থল থেকে ৩টি গুলির খোসা উদ্ধার হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতনকে হত্যা চেষ্টার ছয় দিন পরে দেবহাটা থানায় মামলা হয়। মামলাটি দায়ের করেন আহত চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতনের মা মিনা বেগম (৬৫)। দেবহাটা থানায় রেকর্ড হওয়া মামলাটির ধারা- ৩৪১/৩২৬/৩০৭/ ৩৪ দঃ বিঃ। মামলায় এজাহারভুক্ত হিসেবে তিন জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি সখিপুরের সাবেক চেয়ারম্যান সালামতুল্লাহ গাজীর ছেলে আব্দুল আজিজ (৫০), ২নং আসামি চক মোহাম্মাদ আলীপুর গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুদ্দীন ময়না (৫০), ৩নং আসামি নারকেলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৮)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়। সে সময় পুলিশ ঐ মামলায় এজাহারভুক্ত একজন ছাড়াও সন্দিগ্ধ হিসেবে আরো দুই জনকে গ্রেপ্তার করেন। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৩নং আসামি সাদ্দাম হোসেন এবং সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে পাটকেলঘাটার মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের শেখ আব্দুল হকের ছেলে শেখ আব্দুল গফুর (২৪) ও তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোড়লের ছেলে শিমুল মোড়ল (২০) কে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে পুলিশ মামলার ক্লু উদঘাটন করে মামলাটির চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন জানান, আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছে তাই আমি সেদিনের হামলার পর আজও বেঁচে আছি। ঐদিনটির কথা আজও মনে পড়লে আমি শিউরে উঠি। কিন্তু আমাকে হত্যা করার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করেছিল এমনকি যারা সরাসরি জড়িত ছিল তারা আজ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি আমার জন্য অতি কষ্টের। আমি দেশের প্রচালিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসনের কাছে দাবি জানায় আমাকে হত্যার চেষ্টায় জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে আর কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যার চেষ্টা না করে।
এদিকে, অবিলম্বে এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের পানে চেয়ে আছেন পরিবারটি।
বিষয়টি নিয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজ্জল মৈত্র জানান, আমি যোগদানের আগে মামলাটি চার্জশিট প্রস্তুত করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলেই পুলিশ বিষয়টি দেখবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *