চালের বাজার অস্থির, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ: এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা
dav ফাহাদ হোসেন: অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের খুচরা মূল্য দুই থেকে চার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) শহরের বড় বাজার, পুরাতন সাতক্ষীরা বাজার, মাছখোলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল, আটাশ, মিনিকেট, ঊনপঞ্চাশ ও দশ ধানের চালসহ ইন্ডিয়ান স্বর্ণা ও থাইল্যান্ডের সকল চালের মূল্য দুই থেকে চার টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির নিশ্চিত কোন কারণ না জানালেও তারা মনে করছেন, সিন্ডিকেটের কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। তাদের মতে, অনেক সময়ে সিন্ডিকেট করে চাল মজুদ রেখে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। ফলে দাম বৃদ্ধি পায়।
বড় বাজারের চাল বিক্রেতা আকবর হোসেন জানান, তিনি বর্তমানে প্রতিকেজি আটাশ চাল বিক্রয় করছেন ৪০-৪২ টাকা, মোটা চাল ৩০ টাকা, ইন্ডিয়ান স্বর্ণা চাল ৩২ টাকা, থাইল্যান্ড চাল ৩২ টাকা, ঊনপঞ্চাশ চাল ৩৫ টাকা, আতব ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং মিনিকেট চাল বিক্রয় করছেন ৫০টাকা। কিন্ত এক সপ্তাহ আগে আটাশ চাল বিক্রি করেছেন ৩৮ টাকা, মোটা চাল ২৮ টাকা, ইন্ডিয়ান স্বর্ণা চাল ৩০ টাকা, থাইল্যান্ড চাল ৩০ টাকা, ঊনপঞ্চাশ চাল ৩৩ টাকা, আতব ২৮ টাকা এবং মিনিকেট চাল বিক্রয় করেছেন ৪৭-৪৮ টাকা।
চালের দামের একই চিত্র উল্লেখ করে পুরাতন সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী অনুপ জানান, হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল কিনতে এসে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা।
ক্রেতা শেখ আলমাস আহম্মেদ জানান, চাল কিনতে এসে দেখি চালের দাম কেজি প্রতি চার টাকা বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগেও যে চাল কিনেছি ৩৮ টাকা এখন সেই চাল কিনতে হচ্ছে ৪২ টাকায়। এভাবে লাগামহীন দাম বাড়লে কোন উপায় থাকবে না।
দিনমজুর বিশ্বজিত দাশ জানান, শীতের সময় কাজের সুযোগ কম। পরিবারে লোক সংখ্যা অনেক। খুব কষ্ট করে দিন চালাতে হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যেভাবে চালের দাম বেড়েছে তাতে পরিবারের সদস্যদের আহার যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে দাম বাড়লে আধপেটা খেয়ে বাঁচতে হবে।
এ ব্যাপারে রাইস মিল মালিক আব্দুর রউফ জানান, ধানের যোগান কমে আসার কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার ও অন্যান্য মিলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আটাশ ও মিনিকেট চাল বস্তাপ্রতি ১৯শ ৫০টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা হচ্ছে। যা কিছুদিন আগে ১৭শ থেকে সাড়ে ১৭শ টাকায় বিক্রি করেছি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, কোন ব্যবসায়ী যদি অবৈধভাবে চাল মজুদ করে সংকট সৃষ্টি করে তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply