‘জিতলে মন্ত্রী হবেন রুহুল হক, প্রচারে বাধা শহীদুল আলমের’
এস.এম নাহিদ হাসান: কেউ বলেছেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ডা. আ ফ ম রুহুল হক হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আবার কেউবা বলছেন, ডা. রুহুল হক হবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিপরীতে কেউ কেউ বলছেন কিচ্ছু করার নেই, বিএনপির প্রার্থী ডা. শহীদুল আলম ও তার কর্মী-সমর্থকদের তো মাঠেই নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনই নানামুখী আলোচনায় মেতে উঠছে সাতক্ষীরা-৩ আসনের দেবহাটা, আশাশুনি ও কালিগঞ্জের (আংশিক) চায়ের দোকানগুলো। নির্বাচনী আলোচনায় রীতিমত চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন তারা। প্রত্যেকটি চায়ের দোকান যেন এক একটি মিনি টক শো স্টুডিও তে পরিণত হয়েছে।
সকলেরই একই কথা-সাতক্ষীরা-৩ আসনে দুই হেভিওয়েট চিকিৎসকের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
যদিও প্রচারে এগিয়ে আছেন মহাজোট মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি।
অপরদিকে, ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী ডা. শহীদুল আলম প্রচার-প্রচারণা শুরু করলেও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা আর পুলিশের বিরুদ্ধে গণগ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে তার। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইসহাক আলী সরদার পোস্টার ব্যানার টানিয়ে সাধ্যমত গণসংযোগ করলেও তাদের দলীয় ভোট নেই বললেই চলে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। মন্ত্রী থাকাকালে তিনি সাতক্ষীরায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। ১০ বছরে নির্বাচনী এলাকায় কৃত উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে এলাকায় এলাকায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় করছেন তিনি।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, নির্বাচিত হলে ও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ফের মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন তিনি। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে কাজ করছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা।
নেতা-কর্মীদের কারো কারো ধারণা, এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন ডা. রুহুল হক। আবার, কেউ কেউ মনে করেন তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীই হবেন।
সবমিলিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সর্বত্র নৌকার গণসংযোগ চলছে ধুমছে। নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিতে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন নেতা-কর্মীরা। কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছেন দলীয় প্রার্থীর জন্য। আর সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন সাধারণ মানুষ। করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অপরদিকে, দেবহাটা-কালিগঞ্জ-আশাশুনিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে ডা. শহীদুল আলমের জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করায় একা হয়ে পড়েছেন ডা. শহীদুল আলম। তার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, প্রচার মাইক কেড়ে নেওয়া ও প্রচার কর্মীদেরও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তারপরও নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে সাধ্যমত চেষ্টা করছেন এই বিএনপি নেতা।
চায়ের দোকানগুলোতে তার প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলো উঠে আসছে সাধারণ মানুষের আলোচনায়।
সবমিলিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শহীদুল আলমের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮২৩ জন।

Leave a Reply