ঢাকাSunday , 23 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

রণাঙ্গনের গল্প: দুর্ধর্ষ রাজাকার মেহের আলীকে আমরা ধরে ফেলি

admin ঢাকা
আপডেট: 23 December 2018, 21:52

ফাহাদ হোসেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাসানুল ইসলাম। দায়িত্ব পালন করছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে। ১৯৭১ সালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা জানতে পারি বশিরহাটে বাংলাদেশের যুবকদের দেশ ও জাতির স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানানো হচ্ছে। ওখানে আকাশবাণীর একটা ভবন ছিল, সেখানে নাম রেজিস্ট্রেশন চলছিল। সেখানে খাইরুজ্জামান বাচ্চু নামে একজন ছিল, উনার কাছে গিয়ে বলি আমরা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে চাই। উনি আমাদের বললেন, এতো কমবয়সে তোমরা পারবে? তখন আমার বয়স সাড়ে ১৬ বছর। বললাম কোন অসুবিধা নেই, আমরা পারব। সেসময় মেডিকেল গ্রুপের ট্রেনিং নিয়ে পরবর্তীতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি হাকিমপুর থেকে। পরে হাকিমপুর থেকে ভাড়ুখালীতে তৎকালীন গেরিলা কমান্ডার শামসুর ঢালির গ্রুপে যোগদান করি। মাহমুদপুর ছিল খান সেনাদের প্রতিরক্ষা ঘাটি। সেই ঘাটির মাঝখানে আমরা ছিলাম। খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ছিলো এটা।
সময়টি তখন ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। সেদিন রাতে আমরা ডিফেন্সে সতর্ক দায়িত্ব পালন করছিলাম। খান সেনারা আমাদের উপর দারুণভাবে মর্টার নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ করছিল। মর্টারগুলো ভারতের দিকে চলে যাচ্ছিল। আমরাও পাল্টা জবাব দিচ্ছিলাম।
এর আগে আমরা ভারতের কল্যাণী থেকে যখন হাকিমপুরে আসি তখন পাকবাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধের বর্ণনা চোখে না দেখলে বলা যাবে না। সেই যুদ্ধে আমাদেরকে বলা হয় সম্মুখভাগে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ইপিআরের সুবেদার আব্দুল মালেক বীর বিক্রম মাহবুবউদ্দিনকে বললেন, এদেরকে একেবার সম্মুখভাগে দেওয়া যাবে না, আমাদের কাছাকাছি রাখতে হবে। আমরা প্রতিদিন অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং খাদ্য নিয়ে সম্মুখভাগে যেতাম এবং ফেরত আসতাম। একদিনের ঘটনা আমার খুব মনে পড়ে। আমরা বাংলাদেশে আসার জন্যে হাকিমপুর থেকে সোনাই নদী পার হয়ে আসছিলাম। সেখানে নৌকায় ওঠার জন্য আমরা দাড়িয়ে আছি।
তখন মিত্র বাহিনীর উদ্ধার রেজিমেন্টের একজন সদস্য এসে বলল, মুক্তি ভাইরা তোমরা দাড়িয়ে থাক। তখন আমরা নৌকায় উঠেও আবার নেমে যাই। আমাদের সাথে ২০-২২ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আমরা সবাই নেমে যাই। তারপর মিত্র বাহিনীর ভাইয়েরা নৌকায় উঠে কিছুদূর যেতেই পাক বাহিনীর একটা সেল এসে নৌকায় পড়ে। এতে মিত্র বাহিনীর অনেক জোয়ান শহীদ হয়। ওই যুদ্ধে কলারোয়ার আমজাদ আহত হয়েছিল, সে এখনো বেঁচে আছে।
এদিকে, যুদ্ধ তখনো চলছে। হঠাৎ আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী ও আমাদের যারা বিশ্বস্ত ছিল তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, পাকিস্তানি সৈন্যরা সাতক্ষীরার দিকে পালাচ্ছে। আমরা তখনি অস্ত্র গোলাবারুদ যার যেখানে যা কিছু ছিল সব কিছু নিয়ে সাতক্ষীরার দিকে এগিয়ে আসি। পথিমধ্যে বাদামতলায় যখন আসি তখন দেখি, ভারতের মিত্রবাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধারা সবাই বিজয় উল্লাস করতে করতে সাতক্ষীরার দিকে চলে আসছে। আমরাও সাতক্ষীরায় চলে আসি। পরে সেখান থেকে আমরা সাব সেক্টর কমান্ডার বীর বিক্রম মাহবুবউদ্দিনের নেতৃত্বে বিনেরপোতা হয়ে চুকনগরে যাই। চুকনগরে দুদিন থাকার পরে কেশবপুর হয়ে মনিরামপুরে যাই। সেখানে দুর্ধর্ষ রাজাকার মেহের আলিকে আমরা ধরে ফেলি।
ওখানে কিছুদিন থাকার পরে মাহবুব উদ্দীনের সাথেই ঝিনাইদহে চলে যাই। মাহবুব উদ্দীন ঝিনাইদহের এসডিপি ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে মিলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা দেই।
যুদ্ধের সময় আমরা নিজেকে বাঁচানোর জন্য কেউই ব্যস্ত ছিলাম না। আমরা সবসময় সামনে এগিয়েছি। শত্রুকে আক্রমণ করেছি। ভাড়ুখালী এবং হাকিমপুরে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছিলাম একটা সুন্দর বাংলাদেশ। যেখানে কোন দারিদ্র্য সাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের ভিতরে ভেদাভেদ থাকবে না। এক কথায় সোনার বাংলা আমাদের একান্ত আশা ছিল, কল্পনা ছিল। কিন্তু আমরা এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *