বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন তাই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি: রুহুল হক
মীর খায়রুল আলম ও এমএ মামুন: সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আ.ফ.ম রুহুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন তাই আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। স্বাধীনভাবে বাস করতে পারছি। সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাই তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সম্মানিত হয়েছেন। আজ আমরা স্বাধীন দেশে বাস করে কেউ ডিসি, কেউ এসপি, কেউ এমপি, কেউ মন্ত্রী হতে পেরেছি। কিন্তু আমরা কেউ হাজার চেষ্টা করেও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারব না। তাই মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের মাথার মনি হয়ে থাকবেন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন তাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখবে বাঙালী জাতি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীন হয়। আর শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ এখন উন্নয়নেনর মহাসড়কে। আপনারা দেখেছেন আমরা ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন করেছি। আপনারা আজ বাড়িতে বসে ইন্টারনেটে বিভিন্ন সেবা পেতে শুরু করেছেন। আগামীতে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় এলে কেমন পরিবর্তন ঘটবে আপনারা কল্পনা করতেই পারবেন না। সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, সর্ব ক্ষেত্রে কেমন উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আগামী ৩০ তারিখ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে পারলে দেশের মানুষ সোনায় সোহাগা হয়ে যাবে। তাই উন্নয়ন চাইলে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। তাহলে মুক্তিযোদ্ধারা আরো সম্মান পাবে পাশাপাশি সকল মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।
রোববার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল গণি, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী। এসময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, শ্রমিক লীগের সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল রহমান হাফিজ, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব, দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসহতির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদদের স্মরণে দেবহাটা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, দেবহাটা প্রেসক্লাব, দেবহাটা রিপোর্টাস ক্লাব, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন, জাতীয় পার্টি, বিভিন্ন শিক্ষা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেবহাটা পাইলট হাইস্কুল মাঠে থানা পুলিশ, আনছার বাহিনী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃষ্ফূর্ত অংশগ্রহণে কুজকাওয়াজ, ছাত্র-ছাত্রীদের চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে মুক্তমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং বীরাঙ্গনাদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, বিকালে প্রীতি ফুটবল খেলা, মহিলা বিষয়ক অফিসারের নেতৃত্বে মহিলাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা ও সাব-সেক্টর কমান্ডর ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের কবর জিয়াতর ও আতœার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়। এময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুর গণি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদ, থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী, সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার ইয়াসিন আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আবু রায়হান তিতু, প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সভাপতি আব্দুর রাজ্জক রনি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান প্রিন্সসহ উপজেলার সকল শ্রেণীপেশার মানুুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে দেবহাটা থানা সংলগ্ন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধর কবর জিয়ারাত করা হয়।

Leave a Reply