দেবহাটায় গণসংযোগেকালে ডা. রুহুল হক: নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ দিন
মীর খায়রুল আলম ও এমএ মামুন: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক দেবহাটার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বদরতলা বাজার, পারুলিয়া বাজার, সখিপুর বাজার, সখিপুর মোড়, টাউনশ্রীপুর, নাংলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সখিপুর কাঁকড়া সমিতিস্থ নির্বাচনী অফিসে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, পারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সখিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আবু রায়হান তিতু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, শ্রমিকলীগের সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আকবর আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ইউপি সদস্য নির্মল কুমার মন্ডল, ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যয়ের নেতাকর্মী।
পথ সভায় আ.ফ.ম রুহুল হক বলেন, আমরা কি দিতে পারি আর কি দিতে পারি না সেটি বলার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আওয়ামী লীগ কি উন্নয়ন করতে পারে সেটি কাজে প্রমাণ করেছে। শেখ হাসিনার সরকার বলেছিল ঘরে ঘরে চাকুরী দেব, সেটি ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে করে দেখিয়েছে। আপনাদের জন্য মেডিকেল কলেজ, বাইপাস সড়ক, প্যারামেডিকেল, শতভাগ বিদ্যুৎ, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, সাইক্লোন সেল্টার উপহার দিয়েছি। আপনারা শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছিলেন তাই এতো কিছু আপনাদের দেওয়া হয়েছে। এখন সময় এসেছে তার প্রতিদান দেওয়ার। আগামী ৩০ তারিখ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তার প্রতিদান দিন। ভাববেন না এটা ২০১৩-১৪ সাল নয়। কোন বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবেন না। আমাদের কেউ আক্রমণ করতে আসলে আমরাও পাল্টা জবাব দেব। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ২০১৩ সালে হত্যা করেছিল। আপনারা সেই দিনের কথা ভুলে যাবেন না। আমরা শুধু মরতে জানি না, মারতেও জানি। তাই এখনই সাবধান হন। নির্বাচনকে ঘিরে কোন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আসলাম আর জনগণের ভোট চাইলাম এখন আর ঐ দিন নেই। বিদ্যুৎ দেব বলে খুটি দিয়ে টাকা নিলাম আর বিদেশে পাচার করলাম, সে দিন চলে গেছে। এখন হিসাব দেওয়ার পালা। আমরা কি দিতে পারি তা দিয়ে দেখিয়েছি। তাই সেই অবদানের কথা মনে করে দিয়ে ভোট চাইতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনী যে সব কমিটি করেছেন তাদের কাজ ভাগ করে দিন। আর দিন শেষে অর্জন নিয়ে আবারো তাদের সাথে বসেন। আমরা দেশের মানুষকে মনে করিয়ে বলতে চাই তোমার ঘরে বৃত্তি দিয়েছি, তোমার ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। তোমাদের এলাকায় মসজিদ, মন্দির, রাস্তা হয়েছে। জনগণ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে জন্য শেখ হাসিনা কাজ করছে। আর তাই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকলে অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে নারী ও যুবক ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাই তাদের দিকে নজর দিতে হবে। যুবক ও নারীদের জন্য কি কি করেছে তাদের জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। কারণ যুবকররা আমাদের শক্তি। তাদের কাজে লাগাতে পারলে আমরা উন্নত দেশে গড়তে পারব। এজন্য কোন অপ্রচারে যাতে যুবকদের ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে না পারে সেটি খেয়াল রাখবেন। বেশি বেশি নির্বাচনী মিটিং মিছিল না করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যেয়ে ভোটারদের মনজয় করুন। তাহলে আমাদের জয় সুনিশ্চিত। এ সময় তিনি সকলকে নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ প্রদানের আহবান জানান।

Leave a Reply