খেশরায় কাঁকড়া চাষে বিপ্লব
খেশরা (তালা) প্রতিনিধি: তালার খেশরায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া চাষে এগিয়ে আসছেন অনেক বেকার যুবক। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারবেন এই অঞ্চলের কাঁকড়া চাষীরা। আর কাঁকড়া চাষ করে ভাগ্যে চাকা ঘুরিয়েছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বালিয়া গ্রামে কাঁকড়া চাষে আত্মনিয়োগ করেনর জুলফিকার রহমান, আতিয়ার রহমান, আব্দুল মজিদসহ অনেক বেকার যুবক। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।
জুলফিকার রহমান জানান, মাত্র দশ শতক জমি নিয়ে তিনি কাঁকড়া চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সাত বিঘা জমিতে এর চাষ করছেন। তার মাসিক গড় আয় প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, কাঁকড়ার রোগ বালাই নেই বললেই চলে। সঠিকভাবে খাবার প্রয়োগ এবং পরিচর্যা করলে কাঁকড়ার বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়।
আরেক কাঁকড়া চাষী জানান, যে পুকুর কাঁকড়া চাষের জন্য নির্ধারণ করা হবে তার চারপাশে ৩/৪ ফুট উচু করে নেট-পাটা দিতে হবে। পুকুরটির সাতে একটি পাইপ বা স্লুইস গেটের মাধ্যমে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে যাতে জোয়ারের পানি আসা-যাওয়া করতে পারে। ছোট সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, গরু ও হাঁস-মুরগির বর্জ্য কাঁকড়ার খাদ্য। এসব খাবার দিলে কাঁকড়া দ্রুত বড় হবে। আমি নিজে কাঁকড়া চাষে সফলতা পেয়েছি। আগে সাদা মাছ ও চিংড়ি মাছের চাষ করতাম। কিন্তু দিন দিন লোকসানের দিকে যাচ্ছিলাম। তাই বন্ধুদের পরামর্শে কাঁকড়া চাষ শুরু করি। এখন আমি সফল।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাদিউজ্জামান জানান, বাইরের দেশে কাঁকড়ার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কাঁকড়া চাষ করে খুব সহজে সাফল্য অর্জন করা যায়। এতে ঝুঁকি অত্যন্ত কম। ছোট জায়গায় কাঁকড়া চাষ করা যায় বলে এর উৎপাদন খরচও কম। কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে কাঁকড়া চাষীদেরকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করছি, যা অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply