নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা!
ডেস্ক রিপোর্ট: বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন বৃদ্ধ কাজী বেলাল হোসেন। এরপর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে থাকা জমিসহ বাড়ি বন্ধক রেখে ছেলে মারুফ সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখা থেকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। এসব কারণে গুরুতর দুশ্চিন্তায়ও ছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিজের গলা বটি দিয়ে কেটে আত্মহত্যা করেন বেলাল হোসেন (৫৮)।
সাতক্ষীরা শহরের মেহেরুন প্লাজার ‘সুমাইয়া বোরখা হাউজ’-এর সত্ত্বাধিকারী কাজী মারুফ হোসেন জানান, টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার হাবলাবিলপত্তা গ্রামে তাদের আদি নিবাস। ৪০ বছর আগে বস্ত্র ব্যবসার সূত্রে সাতক্ষীরায় এসে পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙিতে বিয়ে করেন বাবা বেলাল হোসেন। পরে মা আনোয়ারা বেগমের নামে জমি কিনে সেখানে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। সাতক্ষীরা শহরে পুলিশের সদর সার্কেল অফিসের পাশে তার বাবার একটি কাপড়ের দোকান ছিল। ২০১০ সালে মেহেরুন প্লাজায় ভাই ফারুক ও তার ব্যবসা করার জন্য মায়ের নামে থাকা বাড়ি ও জমি বন্ধক রেখে ব্র্যাক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা থেকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ছয় লাখ টাকা পরিশোধ হওয়ার পর ঋণটি ঢাকা ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সাত মাস আগে ঢাকা ব্যাংক থেকে ঋণ বদলি করে সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখায় নিয়ে এসে তার নামে ১৭ লাখ টাকা বর্ধিত করা হয়।
মারুফ হোসেন আরো জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে বাবা বিভিন্ন রোগে ভুগলেও ঋণ নিয়ে তার দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার দুই ভাই দোকানে ছিলেন। মা আনোয়ারা বেগম মামা ডা. মহিদার রহমানের অসুস্থ বাচ্চাকে দেখতে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বাবা বটি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তারা বাবাকে পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। একপর্যায়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. হাফিজুল্লাহ জানান, বেলাল হোসেনের খাদ্যনালী ও শ্বাসনালীর বড় অংশটাই কেটে যায়। ফলে তাকে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply