ঢাকাTuesday , 17 July 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

পাটকেলঘাটায় তৈরি নৌকা যাচ্ছে সারাদেশে

admin ঢাকা
আপডেট: 17 July 2018, 16:02

আরিফুল ইসলাম রোহিত: ঠুক ঠুক শব্দে কর্মযজ্ঞ চলছে শ্রমিকদের। কারিগরের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় শৈল্পিক সৌন্দর্যে তৈরি হচ্ছে এক একটি নৌকা। নৌকার কাঠের মান আর শৈল্পিক সৌন্দর্যের কারণে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় তৈরি নৌকার কদর এখন দেশজুড়ে। এখানকার ছোট-বড় ছয়টি কারখানা থেকে তৈরি নৌকা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাটকেলঘাটা মোড়ে নৌকা তৈরির ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। রাস্তার পাশে সারি সারি কারখানা। শ্রমিকেরা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে তৈরি নৌকা।
তৈয়বা ফার্নিচারের সত্ত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, ‘আমার কারখানায় চারজন কর্মচারি কাজ করে। এসব নৌকা জেলার শ্যামনগর, তালা, দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ উপজেলাসহ খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, ডুমুরিয়া ও যশোরের কেশবপুর, চুকনগর, মনিরামপুর এবং নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বড় বড় ঘের থাকার কারণে নৌকার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া সুন্দরবন এলাকায় মাছ ধরার কাজে এসব নৌকার চাহিদা রয়েছে।’
নৌকা কিনতে লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘এই জায়গায় তৈরি নৌকার কাঠ ভালো মানের। তাছাড়া আমাদের জেলায় আর কোথাও তেমন নৌকা তৈরি হয় না। কাঠের গুণগত মানের দিক থেকে এই এলাকার নৌকার চাহিদা আছে। এখানকার একটি নৌকা প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ভালো থাকে।
শ্রমিকরা জানান, এখানে নৌকা তৈরিতে বেশিরভাগ খৈ ও চম্বল কাঠের ব্যবহার করা হয়। তবে বিভিন্ন কাঠের মিশ্রণেও নৌকা তৈরি হয়ে থাকে। একটি নৌকা তিনজন শ্রমিকেই তৈরি করতে পারে। তবে আকার ভেদে তৈরিতে সময় লাগে দুই থেকে পাঁচদিন।
ব্যবসায়ীরা জানান, নৌকার মূল্য ছোট-বড় ভেদে পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি নৌকা তৈরিতে শ্রমিকের মজুরি, কাঠ আর অন্যান্য খরচ মিলিয়ে যা হয় তার থেকে সীমিত লাভে বিক্রয় করা হয়।
ঐশি ফার্নিচার অ্যান্ড নৌকা কারখানার সত্ত্বাধিকারী শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে। আমাদের তৈরি নৌকা জেলার সীমানা ছাড়িয়ে এখন যশোর আর খুলনার বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, খৈ আর চম্বল কাঠের নৌকা সব থেকে বেশি প্রচলিত এবং গুণগত মানসম্পন্ন।
তৈয়বা ফার্নিচারের সত্ত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করছে। সরকার যদি বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতো তবে এই শিল্পের ব্যাপকতা আরো বাড়তো এবং আরো বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার সহকারি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল্লাহ বলেন, ‘নৌকা তৈরি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আওতায় পড়ে। কিন্তু তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না। যদি তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তাহলে ঋণ পেতে পারে। এই মুহূর্তে ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্পের আওতায় কারখানা প্রতি সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ঋণ ১৮ শতাংশ সুদে ২৪ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *