আলসারেটিভ কোলাইটিস: কারণ-লক্ষণ, জটিলতা ও ঝুঁকি কমাতে করণীয়
আলসারেটিভ কোলাইটিস: কারণ-লক্ষণ, জটিলতা ও ঝুঁকি কমাতে করণীয়
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা মিউকাস দেখা দিলে অনেকেই এটিকে সাধারণ আমাশয়, পাইলস কিংবা সাময়িক পেটের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু একই উপসর্গ বারবার হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। কারণ দীর্ঘদিনের রক্তমিশ্রিত পায়খানা, ঘন ঘন পায়খানার বেগ, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া কখনো কখনো আলসারেটিভ কোলাইটিস-এর সংকেত হতে পারে।
আলসারেটিভ কোলাইটিস হলো বৃহদান্ত্র ও মলাশয়ের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ। এটি ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ-এর একটি প্রধান ধরন। রোগটি দীর্ঘমেয়াদি হলেও সঠিক সময়ে শনাক্ত, যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে অনেক রোগীর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই পায়খানায় রক্ত বা মিউকাস দেখা দিলে কারণ না জেনে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে রোগটির বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
আলসারেটিভ কোলাইটিস কী?
আলসারেটিভ কোলাইটিসে বৃহদান্ত্রের ভেতরের আবরণে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি হয়। সাধারণত প্রদাহ মলাশয় থেকে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে বৃহদান্ত্রের ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত অংশের পরিমাণ ও প্রদাহের তীব্রতা রোগীভেদে ভিন্ন হয়।
এ রোগের একটি নির্দিষ্ট একক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বংশগত প্রবণতা, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টির পরিবর্তন এবং পরিবেশগত বিভিন্ন উপাদানের সম্মিলিত ভূমিকা থাকতে পারে।
কেন হয়, কারা ঝুঁকিতে?
পরিবারে কারও IBD থাকলে আলসারেটিভ কোলাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা কোনো কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক টিস্যুর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বা জীবাণুর ভারসাম্য এবং পরিবেশগত কিছু উপাদানও রোগের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
যেকোনো বয়সে রোগটি হতে পারে। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কৈশোর ও তরুণ বয়সে প্রথম উপসর্গ দেখা দেয়। শিশু-কিশোরের দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, পায়খানায় রক্ত, পেটব্যথা, ওজন না বাড়া বা স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রধান লক্ষণ
রোগের বিস্তার ও তীব্রতার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
* বারবার পাতলা পায়খানা
* পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা মিউকাস
* পেট মোচড়ানো বা ব্যথা
* হঠাৎ পায়খানার তীব্র বেগ
* পায়খানা হয়ে গেলেও আবার চাপ অনুভূত হওয়া
* ক্ষুধামন্দা
* দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি
* ওজন কমে যাওয়া
* গুরুতর অবস্থায় জ্বর ও পানিশূন্যতা।তীব্র রোগে দিনে ছয়বারের বেশি রক্তমিশ্রিত পায়খানা হতে পারে এবং গুরুতর অবস্থায় এর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রকারভেদ
আক্রান্ত বৃহদান্ত্রের অংশ অনুযায়ী রোগটিকে সাধারণত কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়—
* আলসারেটিভ প্রোক্টাইটিস: শুধু মলাশয় আক্রান্ত হয়।
* প্রোক্টোসিগময়ডাইটিস: মলাশয় ও সিগময়েড কোলন আক্রান্ত হয়।
* বাম-পার্শ্বীয় কোলাইটিস: মলাশয় থেকে বৃহদান্ত্রের বাম পাশ পর্যন্ত প্রদাহ ছড়িয়ে পড়ে।
* এক্সটেনসিভ কোলাইটিস বা প্যানকোলাইটিস: বৃহদান্ত্রের বড় অংশ বা পুরো কোলন আক্রান্ত হতে পারে।রোগের বিস্তার জানা চিকিৎসা পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পরিসংখ্যান কী বলে?
আলসারেটিভ কোলাইটিসের হার দেশ ও জনগোষ্ঠীভেদে ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৬ থেকে ৯ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে-এর তথ্য উল্লেখ করে। ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণায় প্রতি বছর প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার হার পাওয়া গেছে, যদিও দেশভেদে এ হার পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশে জাতীয় জনসংখ্যাভিত্তিক নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান এখনো সীমিত। ঢাকার একটি হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় ১৬৪ জন আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। তবে এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত প্রাদুর্ভাবের হিসাব নয়। দেশে রোগটির প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে আরও বড় পরিসরের জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন।
রোগের সক্রিয়তা ও রেমিশন
আলসারেটিভ কোলাইটিসে উপসর্গ সবসময় একই মাত্রায় থাকে না। রোগ সাধারণত ফ্লেয়ার বা সক্রিয় পর্যায় এবং রেমিশন বা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়-এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
সক্রিয় পর্যায়ে রক্তপাত, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও পায়খানার চাপ বাড়তে পারে। আবার রোগ নিয়ন্ত্রণে এলে এসব উপসর্গ অনেকটাই কমে যায়। তাই উপসর্গ কমে গেলেই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
অন্ত্রের বাইরেও সমস্যা হতে পারে
আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রভাব কখনো কখনো অন্ত্রের বাইরেও দেখা দিতে পারে। কিছু রোগীর জয়েন্টে ব্যথা বা প্রদাহ, চোখে প্রদাহ, ত্বকের সমস্যা এবং লিভার বা পিত্তনালির সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতা হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও রক্তক্ষরণের কারণে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতাও হতে পারে। এতে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কী কী জটিলতা হতে পারে?
সময়মতো রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ না হলে—
* রক্তস্বল্পতা * পানিশূন্যতা
* অপুষ্টি ও ওজন কমে যাওয়া * তীব্র রক্তপাত
* টক্সিক মেগাকোলন * গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ত্রে ছিদ্র * দীর্ঘমেয়াদে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পার।দীর্ঘদিনের ও ব্যাপক কোলাইটিসে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
রোগ নির্ণয় কীভাবে হয়?
শুধু পায়খানায় রক্ত দেখেই আলসারেটিভ কোলাইটিস নিশ্চিত করা যায় না। আমাশয়, ব্যাকটেরিয়াল বা পরজীবী সংক্রমণ, ক্রোনস ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসক সাধারণত—
* রক্ত পরীক্ষা: অ্যানিমিয়া ও শরীরে প্রদাহের কিছু সূচক মূল্যায়ন করা হয়।
* মল পরীক্ষা: সংক্রমণজনিত কারণ শনাক্ত বা বাদ দিতে পরীক্ষা করা হয়।
* কোলনোস্কপি: বৃহদান্ত্রের ভেতরের আবরণ সরাসরি দেখা হয় এবং প্রয়োজন হলে বায়োপসি নেওয়া হয়।প্রয়োজন অনুযায়ী রোগের বিস্তার বা জটিলতা বোঝার জন্য অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।
ঘরোয়া যত্নে কী করবেন?
ঘরোয়া যত্ন আলসারেটিভ কোলাইটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
* পর্যাপ্ত তরল: ঘন ঘন পায়খানা হলে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরস্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে।
* সুষম খাবার: রোগীর সহনীয় পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন অনেক খাবার বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
* খাদ্য-ডায়েরি: কোন খাবারের পর উপসর্গ বাড়ে তা লিখে রাখলে ব্যক্তিগতভাবে অসহিষ্ণু খাবার চিহ্নিত করতে সুবিধা হতে পারে।
* পর্যাপ্ত ঘুম: নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
* অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ এড়িয়ে চলা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত নয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ
বারবার পায়খানার চাপ, রক্তপাত, বাইরে বের হওয়ার ভয় ও রোগের পুনরাবৃত্তি রোগীর উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। পরিবারের সহযোগিতা, পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?
রক্তপাতকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা, নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড শুরু করা, উপসর্গ কমে গেলে চিকিৎসা বন্ধ করা এবং শুধু ঘরোয়া বা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিলম্বিত করা উচিত নয়।
কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?
পায়খানার সঙ্গে বেশি পরিমাণ রক্ত, বারবার রক্তমিশ্রিত পায়খানা, উচ্চ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
আলসারেটিভ কোলাইটিসে হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা
আলসারেটিভ কোলাইটিস দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত অন্ত্রের একটি রোগ। হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনায় রোগীর শুধু পায়খানায় রক্ত বা মিউকাস আছে কি না, তা নয়; বরং পায়খানার প্রকৃতি, রং ও গন্ধ, পায়খানার ঘনত্ব, পেটব্যথার ধরন, কোন সময়ে উপসর্গ বাড়ে বা কমে, খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক, ঠান্ডা-গরমের প্রভাব, ঘুম, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মানসিক অবস্থা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনার কথা বলা হয়।হোমিওপ্যাথিক দর্শনে রোগীকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করে তার উপসর্গের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওষুধ নির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ একই রোগে আক্রান্ত হলেও প্রত্যেক রোগীর উপসর্গ এক রকম না হওয়ায় চিকিৎসা পরিকল্পনাতেও পার্থক্য থাকতে পারে।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অভিজ্ঞাতা সম্পন্ন
চিকিৎসকগন প্রাথমিকভাবে যেইসব ঔষধ নির্বাচন করে থাকে:-মারকিউরিয়াস সল, অ্যালো সকোট্রিনা, নাক্স ভোমিকা, পোডোফাইলাম, কলোসিন্থিস, সালফার, আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ফসফরাস, লাইকোপোডিয়াম, চায়না অফিসিনালিস, ফসফোরিকাম অ্যাসিডাম, ক্যামোমিলা, কলচিকাম, ইপেকাকুয়ানহা, কার্বো ভেজিটেবিলিস, অ্যান্টিমোনিয়াম ক্রুডাম, ব্রায়োনিয়া, সেপিয়া তবে এসব ওষধ নিজে নিজে ব্যবহার না করে অভিজ্ঞা সম্পন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ব্যক্তিভেদে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব
হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনায় একই রোগে আক্রান্ত দুই ব্যক্তির উপসর্গ এক না হলে তাদের চিকিৎসা পরিকল্পনাও ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে রক্ত ও মিউকাস প্রধান উপসর্গ, কারও ক্ষেত্রে ঘন ঘন পায়খানা, আবার কারও ক্ষেত্রে পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, দুর্বলতা, অস্থিরতা বা খাবারের পর উপসর্গের পরিবর্তন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তাই শুধু ‘আলসারেটিভ কোলাইটিস’ নামের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর পূর্ণাঙ্গ উপসর্গ মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।
খাদ্য ও জীবনযাপনের গুরুত্ব
হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান, সহনীয় ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।
কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর উপসর্গ বাড়লে তা খাদ্য-ডায়েরিতে লিখে রাখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন নিজের ইচ্ছায় দুধ, শস্য, ফল, শাকসবজি বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যগোষ্ঠী বাদ দেওয়া উচিত নয়; এতে অপুষ্টির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি
আলসারেটিভ কোলাইটিস দীর্ঘমেয়াদি রোগ হওয়ায় রোগের সক্রিয়তা, রক্তস্বল্পতা, পুষ্টিগত অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
পায়খানায় রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, ঘন ঘন রক্তমিশ্রিত পায়খানা, উচ্চ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকের পরামর্শই নিরাপদ
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে চাইলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যক্তিগত উপসর্গ অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আলসারেটিভ কোলাইটিসের সঠিক রোগ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অভিজ্ঞা সম্পন্ন চিকিৎসকের ফলোআপ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়,আলসারেটিভ কোলাইটিস দীর্ঘমেয়াদি হলেও এটি এমন একটি রোগ, যা সঠিকভাবে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে রোগের লক্ষণকে সাধারণ পেটের সমস্যা ভেবে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে রক্তস্বল্পতা, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি থেকে শুরু করে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বারবার পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা মিউকাস, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পেটব্যথা কিংবা অকারণে ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।রক্ত-মিউকাসযুক্ত পায়খানা মানেই আলসারেটিভ কোলাইটিস নয়, আবার এমন উপসর্গকে অবহেলাও করা যাবে না। সঠিক রোগ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, মানসিক সুস্থতা এবং নিয়মিত ফলোআপের সমন্বয়েই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা সম্ভব।
লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
ইমেইল : drmazed96@gmail.com

Leave a Reply