সাতক্ষীরায় কৃষক আনছার আলী হত্যা তিনজন জেল হাজতে
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের কৈখালি গ্রামে বিমাতা ভাই ও ভাইপোদের হামলায় কৃষক আনছার আলী মৃত্যুর ঘটনায় তিন আসামীর জামিন না’মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে সোমবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক চাঁদ মোঃ আব্দুল আলীম আল রাজী এ আদেশ দেন। জামিন না’মঞ্জুর হওয়া আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের কৈখালি গ্রামের এছেম আলী সরদারের ছেলে মোঃ আলী হোসেন, তার দু’ ছেলে জুলফিকার আলী ও রুবেল হোসেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের মৃত. এছেম আলী সরদারের প্রথম স্ত্রীর ছেলে আনছার আলী (৬৮) ও তার সহোদরদের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে ইউপি সদস্য হোসেন আলী ও তার সহোদরদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৯জুন রাত ৮টার দিকে আনছার আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বাইপাস সংলগ্ন নিজ মৎস্য ঘেরে অবস্থান করছিল। এসময় ঘেরের বেড়িবাঁধের মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে মেম্বর হোসেন আলীর নেতৃত্বে তার ছেলে রুবেল হোসেন, জুয়েল হোসেন ও জুলু হোসেন লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও রাম দা দিয়ে রাজ্জাকের উপর হামলা চালায়। রাজ্জাককে বাঁচাতে তার বাবা আনছার আলী এগিয়ে এলে তার উপরেও একইভাবে হামলা চালিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা রাজ্জাক ও আনসারকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আনছারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরদিন খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আনছার মারা যান। হামলার ঘটনায় ১১ জুন আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে জুলু, রুবেল, জুলফিকার ও হোসেন আলীর নাম উলে¬খ সদর থানায় ২৮ নং হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। পুলিশ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ভোরে আনছার আলী মারা গেলে পুলিশ হত্যার ধারা সম্পৃক্ত করে অনুমতির জন্য আদালতে পাঠায়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু জানান, গত ১৯ জুন হোসেন আলী, রুবেল ও জুলফিকার হোসেন মহামান্য হাইকোর্টে হাজির হয়ে অগ্রিম জামিন আবেদন জানালে আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ি ওই তিনজন সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন জানালে বিচারক চাঁদ মোঃ আব্দুল আলীম আল রাজী তাদের জামিন না’মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Leave a Reply