ঢাকাWednesday , 1 June 2022
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

চার দিনের ব্যবধানে দুইবার ধর্ষিত এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 1 June 2022, 21:46

নিজস্ব প্রতিনিধি: চার দিনের ব্যবধানে দুই বার ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ভিকটিম এসএসসি পরীক্ষাথী মাইমুনা ইয়াসমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকায় ধর্ষিতার চাচা মুনসুর আলীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত মাইমুনা ইয়াসমিন সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া ঈদগাহ এলাকার আজিজুর রহমানের মেয়ে। সে শহরের নবারুন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, গত ৩ মে সাতক্ষীরা শহরতলীর ইটাগাছার বনলতা হাউজিং কমপ্লেক্স এলাকায় সহপাঠীর বাড়িতে যেয়ে পূর্ব পরিচিত জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খলিষাবুনিয়া গ্রামের হৃদয় হোসেন (২১) চেতনানাশক ¯েপ্র করে মাইমুনা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে।

একইভাবে গত ৭ মে সন্ধ্যার পর ধর্ষিতার বাড়ির পিছনে এক নারীর সহযোগিতায় হৃদয় হোসেন ধর্ষণ করে। চার দিনের ব্যবধানে ওই মেয়ে দুইবার ধর্ষিত হয়েছে এমন অভিযোগে তার বাবা আজিজুর রহমান বাদি হয়ে গত ৯ মে সাতক্ষীরা সদর থানায় হৃদয় হোসেন ও দুই নারীর নাম উল্লেখ করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(২)/৩০ ধারায় একটি মামলা (২০) দায়ের করেন। মামলা রেকর্ড করার পর ঘটনাস্থলে যেয়ে ওই দুই নারীসহ চারজনকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভিকটিমের বক্তব্যের সাথে মামলায় বর্ণিত অভিযোগ এলোমেলো মনে হওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১০ মে মেয়েটি সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহারের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। একই দিনে সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। মামলার পর থেকে মেয়েটি বিমর্ষ ছিল।

এস আই মিজানুর রহমান আরো জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মাইমুনা ইয়াসমিনের লাশ তার বাড়ি সংলগ্ন ঢাকায় অবস্থানকারি ধর্ষিতার চাচা মুনসুর রহমানের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার সরেজমিনে ইটাগাছার বনলতা হাউজিং কমপ্লেক্সে মাইমুনা ইয়াসমিনের বান্ধবী বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসার নিকটবর্তী পলিটেকনিক স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাড়িতে গেলে কথা হয় ওই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে। তারা জানান, মাইমুনা ২ মে বিকেলে তাদের বাড়িতে এসেছিল। ৩ মে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বৃষ্টি চলাকালিন সময়ে চলে যায়। ৭ মে সকাল ১১টার দিকে কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমানের মাধ্যমে জানতে পারে মাইমুনা ধর্ষিত হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কাটিয়ার ঈদগাহ পাড়ার একাধিক ব্যক্তি জানান, মাইমুনা ইয়াসমিন ও তার একটি প্রতিবন্ধি বোন রয়েছে। মা নেই তাদের। বাবা সন্তানদের ঠিকমত দেখভাল করেন না। তাদের ফুফু ময়না খাতুন স্বামী পরিত্যক্তা থ্যালাসামিয়া রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া মায়মুনাকে তার বাবা বিভিন্ন সময়ে মারপিট করতো। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি মানসিক বিষাদে ভুগছিল।

কাটিয়া দক্ষিণ পাড়ার ট্রাক চালক রবিউল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা খাতুন জানান, মামলায় তার ভাইপো হৃদয় হোসেনকে আসামী করা হয়েছে। সে আদৌ সাতক্ষীরায় যায়নি।
তবে স্থানীয়দের দাবি মাইমুনাকে হত্যা করা হতে পারে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কবীর জানান, মাইমুনা ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের বাবা বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *