মোশাররফ হোসেন: সাতক্ষীরায় কোন প্রকার ইজারা ছাড়াই প্রকাশ্যে বেতনা (বেত্রাবতি) নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয় একজন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে রাত –দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বেতনা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে চরের মাটিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ভবিষ্যতে যার প্রভাব পড়তে পারে নদীর তীরবর্তী গ্রাম গুলোতে। প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।
সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা বাজার ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ব্রিজের পূর্ব পাশে বেতনা নদীতে রাখা ড্রেজার মেশিন ঠিক করছেন মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত জিফার সরদারের ছেলে আইয়ুব আলী। কাছে গিয়ে নাম জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, “লেখেন লেখেন, প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ এসে নাম ঠিকানা লিখে নিয়ে যায়। কিন্তু কেউ কিছুই করতে পারে না।” এসময় তার এক সহযোগিকে ডেকে বলেন, এই ফিরোজ ভাইকে ফোনে ধরিয়ে দে, ভাইয়ের সাথে কথা বলুক। পরে কথা বলবো জানিয়ে বালু কিনতে এসেছি জানালে তিনি এবার সহজ হয়ে বললেন, আমরা নদী থেকে বালু তুলে সাড়ে ৩টাকা থেকে ৪ টাকা ফুট দরে বিক্রি করি। সরাসরি পাইপের মাধ্যমে পুকুর বা জমি ভরাটও করে থাকি। এছাড়া বালু তুলে নদীর পাড়ে নির্দিষ্ট স্থানে ¯ু‘প করে রাখি পরে সেখান থেকে বিক্রি করি।
তিনি আরো বলেন, আমরা বাঁধনডাঙ্গা রাস্তায় ফিলিংয়ের সব বালু এখান থেকে সরবরাহ করেছি। আশে পাশের গ্রামের বেশ কয়েকটি পুকুর ও স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠ ভরাটে এখান বালু দিয়েছি আমি। তাছাড়া সরাসরি পাইপের মাধ্যমে আামি যে কোন ভরাটের কাছে বালু দিয়ে থাকি। আপনি চাইলে এখান থেকে ট্রাক বা ট্রলিতে করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আমাদেরকে ৪টাকা করে ফুট দেয়া লাগবে। বালু তুলতে প্রশাসনের অনুমতি লাগে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আইয়ুব আলী বলেন, ‘না আমাদের ভাই সবকিছু দেখা শুনা করেন যে কারণে অনুমতি লাগে না’।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে সংঘবদ্ধ চক্রটি নদীর কয়েকটি স্থানে সুবিধামত দিনে ও রাতে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কোন প্রকার ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বেতনা নদীর অনেক স্থানে চরের মাটিতে ধস নেমেছে। ভবিষ্যতে যার প্রভাব পড়তে পারে নদীর তীরবর্তী গ্রাম গুলোতে। স্থানীয় একজন প্রভাবশালীর শ্লেটারে থেকে আইয়ুব আলী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। তারা এব্যপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা জানান, বেতনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বিষয়টি আমি জানতে পেরে সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে খোঁজ খবর নিতে বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনা সঠিক হলে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট করার কথা বলেছি।
সাতক্ষীরা সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুমনা আইরিন জানান, বেতনা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এমন তথ্য জানতে পেরে বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে মাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় পাঠনো হয়েছে। ঘটনা সঠিক হলে তিনি সংশ্লিষ্টদেরকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলবেন। না শুনলে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
