সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট অফিসে ছাত্রলীগের তালা, অবরুদ্ধ ৭ জনকে পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিটের অফিসে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগ। তালা দিয়ে অফিস কক্ষে রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে আটকে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) আনুমানিক দুপুর ২ টার পরে এ ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাহী সদস্য শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পরে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন অফিসে এসে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় অফিস রুমে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ নুরুল হকসহ ৭ জন আটকা পড়ে।
ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কোন সদস্য নন। অথচ তিনি গায়ের জোরে এ কাজ করছেন। সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জোর পূর্বক নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মনোনয়ন পত্র নিতে চান জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি। তিনি একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এ ঘটনা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মো. নজরুল ইসলাম জানান, তিনি রেড ক্রিসেন্ট অফিসে তালা মারার ঘটনা শুনেছেন। তিনি এবিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না। সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অফিসে তালা মারার ঘটনা জানতে পেরে তিনি সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে জানালে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাইস চেয়ারম্যানসহ অবরুদ্ধদের তালা খুলে উদ্ধার করে।
মনোনয়ন সংগ্রহে আগ্রহীরা বলেন, আমরা দেখতে পাই অফিসে নির্বাচন কমিশনার তামিম আহমেদ সোহাগ ও সদস্য সচিব কেউই উপস্থিত নেই। তারা কোথায় এবং কখন আসবেন তাও কেউ বলতে পারেন নি। এমন অবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদের লোকজন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সেখানে উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস.এম আশিকুর রহমান জানান, মনোনয়ন ক্রয় করতে দেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ পেয়ে আমি রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ের সামনে আসি। সেখানে এসে দেখি ক্ষুদ্ধ ভোটাররা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তামীম আহমেদ সোহাগ জানান, আমি সকালে একবার গিয়েছিলাম। পরে চলে এসেছি।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ জানান, আমি অসুস্থ ঢাকায় আছি। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলার আব্দুস সেলিম বলেন, আমি বাইরে আছি রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে যেতে পারিনি।
সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উপ-পরিচালক আক্তার হোসেন জানান, আমার শ্বশুর মারা যাওয়ায় আমি ছুটিতে বাড়ি এসেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেড ক্রিসেন্ট সেক্রেটারি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র জানান, আমি দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। ততক্ষনে কিছুই ঘটেনি। পরের কোনো খবর আমার জানা নেই।
সাতক্ষীরার সচেতন মহল ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিটের নেতৃবৃন্দরা তীব্র নিন্দা ও অভিযুক্তদের দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।

Leave a Reply