ঢাকাSunday , 14 November 2021
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কলারোয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৪৩ জনের বেশির ভাগ ছাত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 14 November 2021, 23:39

ফারুক হোসাইন রাজ, কলারোয়া: বৈশ্বিক মহামারি করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন মাসের শিশু কেলে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। সে উপজেলার দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত ছাত্র।
রবিবার (১৪ নভেম্বর) কলারোয়া উপজেলার ৬টি কেন্দ্রে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরুতে ৪৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ৯০৭ জন ছাত্র ছাত্রী অংশ গ্রহণ করেন এ পরীক্ষা ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, এসএসসি সমমানের পরীক্ষা প্রতিবছর ফেব্রæয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে করোনায় আক্রান্তের হার সহনীয় মাত্রায় পৌঁছানোয় পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ সিলেবাসের আলোকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চারটি এসএসসি কেন্দ্র কলারোয়া গার্লস পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খোর্দ্দো মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা ২৭৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন ছাত্রী অনুপস্থিত। শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভোকেশনাল কেন্দ্রে অংশ গ্রহণ করা ৪৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন অনুপস্থিত ও বঙ্গবন্ধু মহীলা কলেজ কেন্দ্রে মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় মোট ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন ছাত্র ও ১৮ জন ছাত্রী অনুপস্থিত। মোট ৩হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৩ জনের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি।
করোনার প্রাদুর্ভাবে গ্রামীণ পর্যায়ে মানুষ পারিবারিক অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও অজ্ঞতার কারণে শিক্ষকদের অগচরে অনেক অভিভাবক স্কুল পড়ুয়া অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। অনেকে সংসার করছে আবার অনেকে সংসারে পাশাপাশি লেখাপড়াও করছে তবে বাল্যবিবাহ থেকে বিরত থাকতে হবে তা না হলে শিশুদের ভবিষ্যৎ উন্নতির বাধা সৃষ্টি হবে। এজন্য অভিভাবক ও সমাজের সকলকে সচেতন হওয়ার আহŸান করেন তিনি।
দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আব্দুর রহিম বলেন, এবছর ৫৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক অসচেতন অভিভাবক তাদের স্কুল পড়ুয়া সন্তাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষকরা জানতে পারলে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে যাবে এ ভয়ে খুব গোপনে বিয়ে গুলো হয়। বাল্যবিবাহ হবে জানা মাত্র প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে অনেক আবার অন্যান্য এমনও প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে সেখানকার অর্ধেকের বেশি মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। গোপনে বিয়ে হয়ে যাওয়া ছাত্রীরাও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অভিভাবকদের তুলনামূলক সচেতন হতে হবে।

কেড়াগাছি ইউনিয়নের পাঁচপোতা এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে নিতে আসা অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ গুলো চিন্তা করে কামলা খেটে যা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনরকম সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার স্বপ্নে তাদের লেখাপড়ার জন্য খরচ করা। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ বাবা- মাকে ভুলভাল বুঝিয়ে স্মার্ট মোবাইল ফোন কিনে নিয়ে বাজে গেম ও অনলাইনে আসক্ত হয়ে উঠেছে যা থেকে ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও মোবাইলে শুরুটা বন্ধুত্ব দিয়ে হলেও চুরি করে অবৈধ বিয়েতে পৌছে যাচ্ছে সমাজে তার পরিবারের চুনকালি মাখিয়ে ফিরে আসলেও তখন আর কোন পথ থাকে না। এজন্য শিক্ষক অভিভাবকদের পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানের উচিত পরিবার সমাজ ও নিজের ভবিষ্যৎ দিনযাপনের চিন্তা করে অগোছালো বাজে চিন্তা থেকে ফিরে এসে লেখা পড়া করে সুন্দর জীবন গঠন করা। নিয়মিত লেখা পড়ায় মনোযোগী হলে বাল্যবিবাহ অনেকাংশেই রোধ হবে।

শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ইসলাম ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল বন্ধ থাকায় অধিকাংশ মেয়েদের গোপনে বিয়ে হয়েছে যে কারনে সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ মাসের শিশু সন্তান নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক পরীক্ষার্থী। ছাত্র ছাত্রীদের স্কুল কলেজে ভর্তির পর উত্তম বন্ধু নির্বাচন করতে জানতে হবে বন্ধু নির্বাচনে ভুল করলে ছাত্র জীবনসহ সার্বিক জীবনকাল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। অসৎসঙ্গের কারণে মাদকের মত ভয়াবহ জালে ছাত্রছাত্রীরা জড়িয়ে পড়ে একসময় লেখা পড়ার কোন সুযোগ থাকেনা। মহামারী করোনা সংক্রমণের পর পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে বিশেষ তিনটি বিষয়ের ওপর এসএসসি পরীক্ষা এবার দেড় ঘণ্টায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বিষয়গুলোর ফলাফল মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, তিন মাসের শিশু নিয়ে সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আফরোজ লিমু। ২০০৪ সালের মার্চ মাসের ৭ তারিখে জন্ম গ্রহণ করে। পিতার নাম মো: সেলিম হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *