ঢাকাSaturday , 21 July 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

‘দুর্যোগকালেও নৈতিক সাংবাদিকতার প্রয়োজন’

admin ঢাকা
আপডেট: 21 July 2018, 16:31

ডেস্ক রিপোর্ট: সাংবাদিকতায় নৈতিকতা একটি জরুরি অনুসঙ্গ। নৈতিকতাই সাংবাদিকতাকে পূর্ণাঙ্গতা দিতে পারে। কেবলমাত্র স্বাভাবিক অবস্থায় নয় দুর্যোগকালেও নৈতিক সাংবাদিকতার বড়ই প্রয়োজন। আর এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সাংবাদিকদের তৎপর হতে হবে।
আশ্রয় ফাউন্ডেশন ও ক্রিসেন্ট এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালার শেষদিন শনিবার বক্তারা এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। এই পেশায় চলার পথে বারবার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় নিজের নৈতিক সাহসই যথেষ্ট। পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনের আশ্রয়ও নেওয়া যেতে পারে। দুর্যোগকালে ভিন্নমাত্রার ঝুঁকির মধ্যেও সাংবাদিককে কাজ করতে হবে জানিয়ে বক্তারা বলেন, এতে পিছ পা হলে চলবে না। কারণ সাধারণ জনগোষ্ঠীই সাংবাদিকের প্রধান মিত্র। তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল আইনের ৩২ ধারার প্রভাব রয়েছে। কোনো সাংবাদিক যাতে তার কর্মক্ষেত্রে এই আইনের বেড়াজালে আটকা না পড়েন সে ব্যাপারে তাকেই অধিকমাত্রায় সতর্ক থাকতে হবে।
কর্মশালার ‘দুর্যোগ পরিস্থিতিতে নৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক টক শোতে মডারেটরের ভূমিকা পালন করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, দৈনিক সাতনদীর নির্বাহী সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম কবির, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, নিইজ টুয়েন্টি ফোরের শাকিলা ইসলাম যুঁই ও দৈনিক পত্রদূতের রণজিত বর্মন। টক শো পরিচালনায় সর্বাত্মক সহায়তা করেন কর্মশালার প্রশিক্ষক মো. জয়নাল আবেদিন। এ সময় আশ্রয় ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষক বনশ্রী ভান্ডারি, প্রোগাম অফিসার মিজানুর রহমান, ক্রিসেন্টের নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টক শোতে উঠে আসে নৈতিক সাংবাদিকতার দশটি বিশেষ পয়েন্ট। এর মধ্যে রয়েছে বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা, হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন, নিজস্ব মতামত প্রদান না করা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, কোনো প্রলোভনে প্রলুব্ধ না হওয়া, রিপোর্টে পক্ষপাতহীনতা, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা, জাতি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখা এবং সংবাদ সূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করা। এ সময় আলোচনায় আসে সাংবাদিকদের আচরণ বিধির ২৫টি পয়েন্ট ও এথিক্যাল জার্নালিজমের ৩৫টি পয়েন্ট।
দুর্যোগকালে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের সেবার অন্তরায় কিভাবে দূর করা যায় তার সমাধানও উঠে আসে টক শোতে। একজন মিডিয়া কর্মী হিসাবে দুর্যোগকালে আরও কোন কোন সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় এবং কি তার সমাধান তাও আলোচনায় উঠে আসে। অপরদিকে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূরীকরণে নৈতিক সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে টক শোর আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় বাস্তব উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হয় ২০০৯ এর ২৫ মে তারিখে আঘাত হানা আইলার অভিজ্ঞতার কথা।
ইয়েলো জার্নালিজম গ্রহণীয় নয় উল্লেখ করে উপকূলীয় সাংবাদিকদের নিয়ে একটি ‘হিউম্যানিটারিয়ান জার্নালিস্ট ফোরাম’ গড়ে তোলার প্রস্তাব আসে টক শোতে। পরে সেটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাবের মুলধারার সাথে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রেসক্লাবকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা তা নিয়ে প্রস্তাব আসে সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে।
মডারেটর এম কামরুজামানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুই দিনের এই কর্মশালা সাংবাদিকদের আরও সচেতন করেছে। তারা নৈতিক সাংবাদিকতাকে আরও বেগবান করতে কাজ করবেন। বিশেষ করে দুর্যোগকালে নৈতিক সাংবাদিকতার প্রতি তারা বেশি মাত্রায় গুরুত্ব দেবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *