ভন্ড কবিরাজ ও দালালদের মাধ্যমে রোগী নিয়ে আসা হয় রেজাউলের চেম্বারে
জামাল উদ্দিন, কৃষ্ণনগর (কালিগঞ্জ) প্রতিনিধি: বহুলালোচিত নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার মহা ফাঁদ পেতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কথিত চিকিৎসক রেজাউল দম্পতি ও তার বাবা এলাকার চিহ্নিত মামলাবাজ, দালাল খ্যাত শামছুর তরফদারের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আরব আলী তরফদার, হাফিজুর রহমান, মামুন হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আলমগীর হোসেনসহ ভুক্তভোগীরা।
এসময় তারা বলেন, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে কয়েক বছর যাবত নিজ বাড়িতে কোহিনুর হোমিও চিকিৎসালয় নামে প্রতিষ্ঠান খোলে রেজাউল ও তার স্ত্রী রিমা আক্তার। সেই থেকে রেজাউল ও তার স্ত্রী রিমা আক্তার সাধারণ অসহায় মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে প্রতারিত করছে। এমবিবিএস চিকিৎসকের মতোই করছে জটিল ও কঠিন সব রোগের চিকিৎসা। নামের আগে ডাক্তার লাগিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে আইন অমান্য করছে প্রতিনিয়ত।
এসএসসিতে কয়েকবার ফেল করা রেজাউল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে বিভিন্ন ঔষুধের গায়ে কোম্পানির সিল তুলে ফেলে নিজের নামের সিল লাগিয়ে তার তৈরি ঔষুধ বলে প্রতারণা করছে। তাদের ভুল চিকিৎসা, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের প্রেসক্রিপশনের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। বিভিন্ন ভন্ড কবিরাজদের মাধ্যমে তার চেম্বারে রোগি নিয়ে আসা হয় উল্লেখ্য করে বক্তারা আরও বলেন, রেজাউলের বাড়িতে কোন রোগী গেলে প্রথমেই তার হাতে একটি ম্যাশিন দেওয়া হয়। এরপর ওই মেশিন দেখে রেজাউল মানবদেহের সকল সমস্যার কথা বলে দেয়। সাধারণ রোগিদের লিভার, হার্ড, পিত্ত পাথরী, শরীরে ভিটামিনের সমস্যা ইত্যাদি রোগের ভয় দেখিয়ে টেস্ট, ভিজিট আর ঔষুধ দেওয়ার নামে প্রত্যেক রোগির কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
বক্তারা আরও বলেন, রেজাউলের বাবা শামছুর তরফদার এলাকার চিহ্নিত একজন মামলাবাজ ও দালাল। প্রতিদিন সাধারণ মানুষদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলে পুলিশি ভয় দেখিয়ে গরীব অসহায় মানুষদের বøাকমেইল করে থাকে। এলাকার জমির দালাল নামেই তাকে সবাই চিনে বলে বক্তারা বলেন।
এমতাবস্থায় অতি দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রসঙ্গত: গত ২ ও ও সেপ্টেম্বর রেজাউল ও তার স্ত্রীকে সাতক্ষীরার স্থানীয় দৈনিকসহ দেশের মূলধারার প্রথম সারির গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে নিজেদের বাঁচাতে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের কাছে দৌডঝাঁপ শুরু করে রেজাউল ইসলাম ও তার পিতা সামছুর রহমান। এমনকি তারা সাংবাদিকদের চাঁদাবাজ ও মামলার হুমকি দিতে থাকে।

Leave a Reply