ঢাকাWednesday , 14 July 2021
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

এসিল্যান্ডের নাম করে রেভিনিউ আদায়ের অভিযোগ গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 14 July 2021, 22:05

আহসান উল্লাহ বাবলু, আশাশুনি : আশাশুনিতে সহকারী কমিশনার ‘ভূমি’ (এসিল্যান্ডের) এর নাম ভাঙিয়ে বালু উত্তোলন কারির থেকে রেভিনিউ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খলিলুর রহমান নামে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের কুঁন্দুড়িয়া গ্রামে। সরজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুঁন্দুড়িয়া ফুটবল মাঠে বালু ভরাট কাজ শেষ হওয়ার পর পাশ্ববর্তী সুব্রতর ঘর ভরাটের জন্য ২হাজার ৫শত ফুট বালু উঠিয়ে নেন তিনি (সুব্রত)।

বালু উত্তোলনের পরের দিন বুধহাটা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমা তার সাথে থাকা সঙ্গীয় ব্যক্তিকে নিয়ে এসে ড্রেজার মালিক ও সুব্রতকে বলেন উনি আশাশুনির এসিল্যান্ড। এসময় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে এসিল্যান্ড পরিচয় দানকারী ঐ ব্যক্তি ড্রেজার মালিককে মাঠ ভরাটের বাহিরে কোথাও বালু উত্তোলন করলে ফুট প্রতি ২টাকা সরকারী রেভিনিউ দেওয়ার কথা বলে চলে যান। ঐ ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরে গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমান স্থানীয় সুব্রতকে বলে বালু ভরাট বাবদ চুক্তিকৃত ৭হাজার টাকা এসিল্যান্ড অফিসে পাঠিয়ে দিতে বলেছে। সুব্রত গ্রাম পুলিশের কথা মত টাকা না দেওয়ায় তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া সহ মারপিটের ভয় দেখায়।

গ্রাম পুলিশ, সুব্রতর সামনে তার ছেলেকে মারধর করতে গেলে ভয়ে গ্রাম পুলিশের হাতে ৭ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। এদিকে বুধহাটা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, জনৈক ব্যক্তি এসিল্যান্ড ছিলেন না। তিনি ছিলেন বুধহাটা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। ড্রেজার মেশিন মালিক রবিউল ইসলাম ছোটন জানান, গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমান আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়ে ৫ হাজার টাকা এসিল্যান্ডকে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার জামার কলার ধরে মারার জন্য উদ্ধত হন।

সুব্রত কুমার জানান, এসিল্যান্ড স্যারের কথা বলে আমার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করে। আমি প্রথমে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ছেলেকে গ্রাম পুলিশ বারবার মারার জন্য এগিয়ে যায় এবং আমাকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে অবশেষে আমি ভয়ে আমার স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে ৭হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। আমি খুব গরিব মানুষ। বালু কিনে ঘর দুটি ভরাট দেওয়ার ক্ষমতা আমার ছিলো না। আমার ছেলে অমারেশ বিগত একমাস মাঠ ভরাট কাজের তাদেরকে সহযোগিতা করে এবং ইউপি সদস্য মতিয়ার ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে আমি ঘর ভরাটের জন্য ২হাজার ফুট বালু উঠিয়ে নিয়েছি। সোমবার আমার ছেলে অমারেশ গ্রাম পুলিশ খলিলুরকে ফোন দিয়ে রেভিনিউ বাবদ জমাকৃত টাকার রশিদ চাইলে টেলিফোনে সে বলে ” আমি টাকা জমা দেইনি, পারলে তোরা আমার নামে অভিযোগ করিস”।

ড্রেজার মেশিন মালিক আরো জানান, অনেক অনুরোধের পর স্থানীয় মেম্বরের অনুমতি নিয়েছেন সুব্রত দাদা এ মর্মে আমি ২ হাজার ফুট বালু উঠিয়ে দিতে রাজি হই। বালু দেওয়ার একদিন পরে গ্রাম পুলিশ এসিল্যান্ড স্যারকে নিয়ে আসে। এসিল্যান্ড স্যার ইজিবাইক থেকেই আমাকে বলেন, মাঠের বালু উত্তোলনের কাজ শেষ হলেই মেশিন নিয়ে চলে যাবে এবং বাহিরের কাজ করলে সরকারকে রেভিনিউ দিয়ে করবে। এসিল্যান্ড স্যার চলে যাওয়ার পরপরই সুব্রত দাদার থেকে ৭হাজার টাকা নিয়ে গ্রাম পুলিশ আমাকে ২হাজার টাকা দিয়ে বাকি ৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।
এদিকে গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, আমি নায়েব অফিসে ৫হাজার টাকা জমা করেছি কিন্তু কোন রশিদ আমাকে দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বুধহাটা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঐ দিন সেখানে গিয়েছিলাম এবং মাঠ ভরাটের বাহিরে বালু উত্তোলন করলে সরকারী রেভিনিউ জমা দেওয়ার কথা বলে চলে এসেছিলাম।

আমি টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানি না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টির কিছুই আমি জানি না। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলবো। অভিযোগ করলে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত বছর গ্রাম পুলিশ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা আত্মসাতের নিউজ ভাইরাল হওয়ায় পরের দিন সে টাকা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হওয়াসহ নানা অভিযোগ আছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। নাম ভাঙিয়ে টাকা আত্মসাতের বিষয়টির তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *