সাতক্ষীরায় করোন আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৯ জনের
নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা গ্রামের জয়দেব ঘোষ (৪০) স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এসেছেন করোনার টিকা নিতে। ভিড় ঠেলে টিকা নিয়ে বেরিয়ে আসার পর দম নিয়ে প্রশ্ন রেখে জানান, টিকা নিতে এসে করোনা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি না তো? করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ঠেলা ঠেলি করে মানুষ টিকা গ্রহণ করছে। এদিকে জেলা ভিত্তিকসহ সারা দেশের লকডাউনের সময় যোগ করে সাতক্ষীরায় দেড় মাসেরও বেশি সময় কঠোর বিধি নিষেধ চললেও করোনায় মৃত্যু হার কমছে না।
প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন করে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার করোনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যু বরণ করেন। এ অবস্থায় টিকা প্রদানের ঘোষণায় স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে টিকা গ্রহণের জন্য। ফলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মোবাইলে মেসেজ না পেয়েও অনেকেই টিকা নিতে হাজির হচ্ছেন।
এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে টিকা প্রদান কারিদের। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুসাইন শাফায়াত জানান, গত রবিবার (১১ জুলাই) থেকে করোনার টিকা দেওয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালে এসব টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় টিকা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালানো হয়। আর এবার স্বেচ্ছায় মানুষ হাসপতালে ছুটছে টিকা নিতে। তুজুলপুর গ্রামের সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন, শহরের রাজারবাগান এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী লাভলী রহমান জানান, মানুষ টিকা গ্রহণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। তবে সদর হাসপাতালে ছোট্ট একটি জায়গায় একজন মাত্র টিকা দিচ্ছেন। এদিকে প্রচুর মানুষ ভিড় করছেন টিকা নিতে।
অনেকে রেজিস্ট্রেশন না করেও আগেভাগে চলে আসছেন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। টিকা প্রদানকারীদের জনবল বাড়ানো ও টিকার পরিমাণ বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। এখন করোনায় মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার কারণে টিকা নিতে ছুটছে মানুষ। সিভিল সার্জন বলেন, প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ টিকা নিতে আসছে।
ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকে মোবাইলে মেসেজ না পেয়েও চলে আসছেন। তাদের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনার যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, এটি করোনা টিকার প্রথম ডোজ, সিনোফার্মার টিকা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৫৪০০ জনকে এই টিকা দেওয়া হবে। আর বাকি ছয় উপজেলায় ১৫ হাজার ৬০০ জনকে টিকাটি প্রদান করা হবে।

Leave a Reply