অক্সিজেন নিতে আসা যুবককে আটক রাখার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন, এএসআই ক্লোজ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় অসুস্থ বাবার জন্য অক্সিজেন নিতে আসা যুবককে দুই ঘণ্টা আটক রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই সুভাষ চন্দ্রকে গতকাল শুক্রবার পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) ইকবাল হোসেন প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের ওলিউল ইসলাম জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ তার বাবা রজব আলী মোড়লের জন্য গত বৃহস্পতিবার জরুরী অক্সিজেনের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি শহরের পলাশপোল এলাকার ব্যবসায়ীর নিকট থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ইটাগাছা হাটের মোড়ে পৌঁছালে তাকে আটক করেন ইটাগাছা ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র শিকদার। লকডাউনে বাহিরে বের হওয়ার কারণে তিনি তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন।
দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাকে দুই ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয়। পরে ইটাগাছা এলাকার জনৈক জিয়াউল ইসলামের মধ্যস্থতায় ২০০ টাকা নিয়ে ওই পুলিশ কর্তা তাকে ছেড়ে দেন। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। বাড়িতে যেয়ে দেখেন অক্সিজেনের অভাবে তার বাবা মারা গেছেন। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, যদি সময় মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে যেতে পারতাম তাহলে হয়তো বাবাকে বাঁচানো যেত। তিনি এই অমানবিক ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বেপরোয়া গতিতে আসছিল মোটরসাইকেলটি। কাগজপত্রও ছিল না। মাত্র ২/৩ মিনিট মোটরসাইকেলটি থামিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ঘটনা শুনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হুসেন জানান, এ ঘটনায় এএসআই সুভাষ চন্দ্রকে শিকদারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
এছাড়া সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) ইকবাল হোসেন প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ও ইটাগাছা পুলিশফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারেক আজিজ।

Leave a Reply