মীর খায়রুল আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি: মাত্র কয়েকদিন পর ঈদুল আযাহা। আর ঈদুল আযাহা মানে পশু কেনা বেচার ধুম। রাজধানী থেকে শুরু করে মহানগর, জেলা, উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে বসে কুরবানির পশুহাট। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাস প্রভাবে পূর্বের ন্যায় জমজমাট পশুহাট হচ্ছে না এবার। আর এতে শঙ্কায় রয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে হাট ইজারা গ্রহীতারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছেন অনলাইনে কেনা বেচার মাধ্যমে এ শঙ্কার কাটিয়ে ওঠা যাবে।
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে গরিব ও মধ্যবিত্তরা গরু-ছাগল-ভেড়া পালন করেন। বর্তমান শিক্ষিত যুবকরা গরু মোটা তাজা করণকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকে। যে কারণে সারাদেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় বড় গরু-ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। সারা বছর কসাইদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে কিছু কিছু স্পেশাল গরু তৈরি করেন খামারিরা। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণই ভিন্ন। বৈশিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার যেন সব হিসবে উল্টে গিয়েছে।
তবে বর্তমান করোনা মহামারি আকার ধারণ করায় কুরবানির পশুহাট বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ স্থানে। এছাড়া কুরবানিকে কেন্দ্র করে পোষা প্রাণীর পেছনে দীর্ঘ পরিশ্রম ও আর্থিক বিনিয়োগ তুলে আনা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে খামিরাদের। তাছাড়া এই পরিস্থিতিতে সঠিক দাম না পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা। ঈদে তারা গরু বিক্রি করতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে চিন্তা যাচ্ছে না তাদের।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চালে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ার পশুরহাট বন্ধ রয়েছে কয়েক মাস। বিগত বছরগুলোতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। প্রতি রবিবার পারুলিয়া বৃহৎ পশুর হাট জমজমাট রূপ লাভ করে। কিন্তু করোনা সেই চেনা রুপ বদলে দিয়েছে।
এদিকে দেবহাটা উপজেলার কোমপুরের খামারি আসাদুজ্জামান বলেন, এবার কোরবানির আশায় ১৬ টি গরু লালন-পালন করেছি। এখন করোনা নিয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। তাছাড়া প্রতিদিন খামারে প্রায় কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়। যদি ঈদে গরু বিক্রি না হয় তাহলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আমরা তো সারাবছর গরু পালন করি ঈদের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার জন্য। কিন্তু এ বছর করোনায় আমাদের সব আশা কেড়ে নিতে বসেছে। জানি না আমাদের ভাগ্যে কি আছে। তিনি আরো বলেন, এবার গো-খাদ্যের দাম অত্যধিক বেড়ে গেছে। এ কারণে গরু পালনে খরচও বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় শেষ পর্যন্ত খামার টিকিয়ে রাখা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরেক খামারি মাঝ-পারুলিয়ার খালিদ হাসান গরু মোটাতাজাকরণ করে আতঙ্কে আছেন তিনিও। তিনি বলেন, আমরা যারা খামারি, তারা সারাবছর গরু মোটাতাজাকরণ করে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। ৩-৪ লাখ টাকা বিক্রির আশায় ভালো ভালো খাওয়া দিয়ে গরু পালন করি। যদি সেগুলো কোরবানিতে বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের প্রচুর লস হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সারাবিশ্বে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে আমরাও সে পরিস্থিতির শিকার। তিনি আরো বলেন, সমস্যা আসবে কিন্তু সেসব সমস্যা সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গো-খামারিদের রক্ষার জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। দেবহাটায় ৭২৫ এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। অনেকে পরবর্তীতে পাবেন। খামারিদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। এবছর দেবহাটায় ৮৩১ খামিরাদের ৯৬৮টি গরু, ৭২৪টি ছাগল, ভেড়া ২৫৫টি সহ সর্বমোট ২০২৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
তাই আতঙ্কের কারণ নেই। হাট বন্ধ থাকলেও অনলাইনে এবার পশুর কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে খামারিদের বাড়তি খরচ কমবে। অনলাইনে পশু কিনতে ফেসবুকে “দেবহাটা অনলাইন কুরবানির পশুহাট” পেজে বিভিন্ন দামের পশুর বিবরণ দেওয়া আছে। পছন্দ মত কেনা বেঁচা যাবে। তাছাড়া আমাদের অফিসের কর্মীরা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে খামারির পশুর ছবি তুলে বিস্তারিত অনলাইনে আপলোড করছে। আশা করি এখান থেকে ভালো মানের বেচাকেনা হবে।
