করোনার প্রকোপ ও লকডাউন নিয়ে উদ্বিগ্ন আশাশুনির কুরবানি পশুর খামারীরা
সমীর রায়, নিজস্ব প্রতিনিধি : করোনার প্রকোপ ও লকডাউন নিয়ে উদ্বিগ্ন আশাশুনির কুরবানির পশুর খামারীরা। লকডাউন-শাটডাউন কতদিন থাকবে, ঈদে পশুর হাট আদৌ বসবে কি না এ নিয়ে চিন্তিত গরুর খামারীরা। আবার চলমান লকডাউন চলতে থাকলে বিক্রির মুখে এসে গো-খাদ্যের ঘাটতি পড়ে কি না সেটাও ভাবিয়ে তুলেছে খামারীদের। অন্যদিকে সীমান্ত বন্ধ থাকায় এ বছর হয়ত ভারতীয় গরু ঢুকবে না। তাই অনেকেই ভাল দাম পাবার ব্যাপারে খুব আশাবাদী। আশাশুনি প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন- এ বছর পবিত্র ঈদ উল আযহার কুরবানীতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১৩৪০ খামারী তাদের গবাদী পশু নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। এ বছর ৪৫০০টি কুরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে যার মধ্যে উৎপাদিত হবে ৪৪৮০টি।
তাই ঘাটতির আশঙ্কা নেই বললে চলে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বুধহাটা, কুল্যা, দরগাহপুর, বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নে ৬০% গরুর খামার পরিচালিত হয়। বিক্রির শেষ সময়ে এসে আমরা প্রত্যেক খামারীর সাথে যোগাযোগ রেখে তাদের গবাদী পশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক খবর এবং চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। লকডাউনের ফলে যদি পশুর হাট না বসে সেক্ষেত্রে আমরা ‘অনলাইনে গবাদী পশু ক্রয় বিক্রি’ বলে একটি আইডি খুলেছি। যার মাধ্যমে আমরা খামারীকে তাদের ক্রেতাদের সাথে সমন্বয় করাবো। সীমান্ত থেকে যদি অবৈধভাবে ভারতীয় গরু যদি না আসে তবে খামারীরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাবে বলে আশা করছি। উপজেলা সদরের খামারী রবিউল ইসলাম জানান- প্রতিবছর একটি দুটি করে গরু পালন করি। ৩০/৩৫/৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে তাদের পিছনে বিচলি, কুড়া, ভুসি,ঔষধ দিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রির সময় ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হয়ে থাকে। এবছর দেশের করোনা পরিস্থিতি যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে ভাল দামে গরু বিক্রি করতে পারব কিনা সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। প্রতি বছর এর আগে ক্রেতারা আসতে থাকে।
কিন্তু এ বছর আজ পর্যন্ত কেউ আসেননি। প্রতি গ্রামে গ্রামে জ্বর, সর্দি, কাশি যেভাবে বেড়েছে তাতে মানুষের মধ্যে আগ্রহ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবে লকডাউনের মধ্যে যদি পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে তাহলে কেউ হয়তো ক্ষতির মুখ দেখবে না। দরগাহপুর ইউনিয়নের খরিয়াটি গ্রামের খামারী সালাউদ্দীন সরদার জানান- প্রতি বছর আমি গবাদী পশুর খামার করে থাকি। সংসারের অন্যন্য কাজ শেষে গরুর খামার আমার কাছে বেশ লাভজনক মনে হয়। এ বছরও আমার দুটি গরু ও দুটি ছাগল বিক্রি করব। ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কিনেছি। সব কিছু ঠিক থাকলে কমপক্ষে দেড় লক্ষ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। তবে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু যদি না ঢোকে তাহলে আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে মনে হয়।

Leave a Reply