খাজরায় মারামারি আহত ১,আটক ১
খাজরা (আশাশুনি) প্রতিনিধি : আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের পল্লীতে পূর্ব শত্রæতার জেরে মারামারি সংগঠিত হয়েছে। মারামারিতে একজন মারাত্বক আহত হয়েছে। এসময় জনতার হাতে একজনকে আটক ও একটি মটর সাইকেল জব্দ করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার(২৬জুন) বিকাল ৫টায় ৪নং ওয়ার্ডের দেয়াবর্ষিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত দেয়াবর্ষিয়া গ্রামের মৃত দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল এর পুত্র বিধান চন্দ্র মন্ডল (৩৬) জানান,আমি বিকালে দেয়াবর্ষিয়া দিঘির পাড়ে বসে এলাকার লোকজনের সাথে গল্প করছিলাম।
হঠাৎ দেখি একই গ্রামের মৃত উপেন্দ্র নাথ মন্ডলের পুত্র শিক্ষা অফিসের ক্লার্ক প্রদ্বীপ মন্ডল দিনের বেলায় গদাইপুর গ্রাম থেকে ভাড়াটে ১০থেকে ১২জন লোক নিয়ে আমাকে দেখিয়ে দেয়। তারা আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে তুই বিধান। আমি হ্যা বলা মাত্রই আমাকে চড়,কিল,ঘুসি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আমাকে টানতে টানতে পাশে নিয়ে যায়। আমার চোখে মারাত্বক আঘাত লেগেছে,চোখ ফুলে উঠেছে। আমি ডালিম চেয়ারম্যানের লোক বলে খুলনার অহিদুলের নেতৃত্বে প্রদ্বীপ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি আশাশুনি থানা পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার চায়। প্রত্যক্ষদর্শী সারদা রানিসহ একাধিক ব্যক্তি জানান,প্রদ্বীপ খাজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী খুলনার অহিদুলের দল করে। আর বিধান ও তাপস স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডালিমের দল করে। সেই কারণে বিধানকে সায়েস্তা করতে প্রদ্বীপ মন্ডল এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিধানের মারার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। পরে ওরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা একজনকে তাদের ব্যবহৃত মটরসাইকেলসহ আটক করে ৪নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মিজানুর গাজীর জিম্মায় দিয়েছি। দিনে দুপুরে এমন ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। স্থানীয় নৃপেন্দ্রনাথ জানান,প্রদ্বীপ মন্ডলের নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আমাদের সে তোয়াক্কা করে না। অর্থের দাপটে যার তার নামে মামলা করে।
আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই। আটক গদাইপুর গ্রামের বরকত মোল্যার পুত্র রবিউল মোল্যা(৩২) জানান,আমি একজন ভাড়া চালিত মটর সাইকেল ড্রাইভার। বিকালে শাহিনুর মোল্যা নামে আমার এক প্রতিবেশী দেয়াবর্ষিয়ায় প্রদ্বীপের বাড়িতে যাবে বলে ডেকে নেয়। আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত না। এবিষয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান,দেয়াবর্ষিয়ায় মারামারি ও জনতার হাতে একজন আটক আছে এমন খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত বিধান চন্দ্রকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি ও মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

Leave a Reply