কালিগঞ্জে একাধিক শিশু ধর্ষণ চেষ্টার আসামি গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিনিধি: একাধিক শিশু ছাত্রীর সাথে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজের অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সেই আরবি শিক্ষক আক্তারুজ্জামান তুহিনকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে থানার উপ-পরিদর্শন ওহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা লম্পট শিক্ষকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। শুক্রবার (৪ জুন) বেলা ২ টার দিকে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু ছাত্রীর নানা (৫৫) জানান, উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মোবারক গাজীর ছেলে ও রহমতপুর তা-লিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার আবরি শিক্ষক আক্তারুজ্জামান তুহিন নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে একাধিক শিশু ছাত্রীদের সাথে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করে আসাছিল।
গত ১০ এপ্রিল বিকেলে তার নাতনী ৮ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ২৬ বছর বয়সী খালাকে সাথে নিয়ে শিক্ষক তুহিনের বাড়িতে আরবি পড়তে যায়। ওই সময়ে শিক্ষক তুহিন প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে শিশু মেয়েটিকে ঘরের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। শিশু ছাত্রীর গোঙ্গানির একপর্যায়ে শিশুর খালা দ্রæত ঘরের মধ্যে গেলে শিক্ষক তুহিন ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর নানাসহ পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসার সুপার জনৈক হাফেজ ইউনুস আলীকে জানাতে গেলে জানাতে পারেন, শিক্ষক তুহিন ইতিপূর্বে প্রায় ২১ জন শিশুর সাথে অনৈতিক কাজ করেছে।
বিষয়টি মাদ্রাসা সুপার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্য সদস্যরা বিচার বসিয়ে মিমাংসা করেছে এবং শিক্ষক তুহিনকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করেছে বলে জানতে পারেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শিক্ষক তুহিনকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় ইতিপূর্বে অন্য আরেকজন শিশু ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত: শিক্ষক তুহিনের অপকর্মের এই ঘটনাটি নিয়ে গত ৪ মে দৈনিক সুপ্রভাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সময় থেকে শিক্ষক তুহিন পলাতক ছিলো। তবে স্থানীয় এক নেতার সহযোগিতায় শিক্ষক তুহিন বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে আসছিল।

Leave a Reply