ঢাকাWednesday , 26 May 2021
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ইছামতির বাধ টপকে গ্রাম প্লাবিত: দাবি স্থায়ী বাধ নির্মাণের

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 26 May 2021, 22:17

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সীমান্তবর্তী ইছামতি সহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে নদী বাধে ভাঙ্গন দেখার উপক্রম হয়। এসময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে নদীবাধ রক্ষায় কাজ শুরু করে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড উক্ত এলাকা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এদিকে, সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়। সাথে সাথে ইয়াস দূর্বাল হয়ে ভারতের দিকে আবস্থান নিতে থাকে। কিন্তু প্রবল পানির চাপে দুর্বল বেড়িবাধ ধস নেমে কোমরপুরে পানি প্রবেশ করে। এতে ঐ এলাকার অসংখ্য বসতবাড়ি ও মৎস্যঘেরে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। এছাড়া ভাতশালা, টাউনশ্রীপুর, সুশীলগাথী, দেবহাটা সদর, বসন্তপুর, নাংলা, ছুটিপুর সহ কয়েকটি স্থানে নদীর পানি প্রবেশ শুরু হলে মাটি, বালু, ইট ভর্তি বস্থা ফেলে প্রাথমিক বাধ রক্ষা করা হয়।
ইছামতি নদীপাড়ের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। মাঝে মাঝে রোদ ছিল। এর মধ্যে দুপুরের আগে জোয়ারের পানি এত বৃদ্ধি পায় যে বাধ ছাপিয়ে পানি ওঠে। গত ২৫/৩০ বছরে এমন পরিস্থিতি তিনি দেখেননি বলেও জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরমান হোসেন জানান, বসন্তপুর ¯øুইস গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে খবর পায় রাস্তার উপরে পানি উঠে যাচ্ছে। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বাধ রক্ষা করি। তিনি আরো জানান, নদী ও খাল পাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন বাড়িতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। ভাটা নামার সাথে সাথে পানি নেমে গেলেও মাটির ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
কালিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ওবাইদুর রহমান মল্লিক জানান, ভরা পূর্ণিমার সাথে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদ-নদীতে ৪ ফুট পর্যন্ত পানি বেড়েছে। এতে বিভিন্ন পয়েন্টে পানি টপকে লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাটি, বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে বাধ রক্ষায় কাজ চলমান আছে।

দেবহাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শফিউল বশার জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ রক্ষা করার ক্ষমতা কারোর নেই। তাই আমাদের উচিৎ আগাম সংকেত শুনে সতর্ক হয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমিয়ে আনা। আমরা ইছামতি নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা জানান, ইয়াসের প্রভাবে নদী ভাঙ্গ দেখা দেওয়ায় থানা ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। থানা ভবন নদীর পাড়ের নিকটবর্তী হওয়ায় জরুরী স্থায়ী বাধ নির্মাণ করতে হবে। না হলে লাখ লাখ টাকা খরচ করে উন্নত থানা ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার বলেন, ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীর বাধ অতিক্রম করে কয়েকটি স্থানে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় সেগুলো বন্ধ করা গেছে। তেমন ক্ষয়ক্ষতির সম্ভবনা দেখা যায়নি। কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কাজ করছে।
দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান জানান, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ইছামতির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী নদীর বাধ স্থায়ী ভাবে রক্ষা করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *