ঝাউডাঙ্গায় গাছে গাছে পেরেক ঠুকে ঝোলানো হয়েছে ব্যানার ফেস্টুন
স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গায় গাছে গাছে পেরেক ঠুকে ঝোলানো হয়েছে ব্যানার ফেস্টুন। গাছ মানুষের পরম বন্ধু হওয়া সত্তে¡ও গাছের সঙ্গে পেরেক ঠুকে ব্যানার ফেস্টুন ঝুলোনোকে গাছের সাথে নিষ্ঠুরতা বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়রা বলছেন, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে গাছকে হত্যা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কিছু অসচেতন স্বার্থান্বেষী মহল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যানার ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড গাছে পেরেক ঠুকে ঝুলোনো হয়েছে।
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাসহ যশোর-সাতক্ষীরা মহা-সড়কের পাশের সরকারি গাছে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণার অসংখ্য সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিজ্ঞাপন। এসব ব্যানার, ফেস্টুন এত বেশি পরিমাণে ঝোলানো হয়েছে যে গাছ চেনার উপায় নেই। স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, ‘পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে যে ছিদ্র হয়, তা দিয়ে পানি, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব গাছের শরীরে প্রবেশ করে। এতে গাছে দ্রæত পচন ধরে। ফলে তার খাদ্য ও পানি শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে গাছ মারাও যেতে পারে। তাই কোনো গাছে পেরেক ঠোকা মানে ওই গাছের চরম ক্ষতি করা। যেখানে আমাদের বেশি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা প্রয়োজন, সেখানে উল্টো গাছের ক্ষতি করে চলেছি’। তারা আরও জানান, ‘এভাবে রাজনৈতিক দলের প্রচারণা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য গাছ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। কোনোভাবেই পেরেক ঠোকা চলবে না’। গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে ২০০২ সালের ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস হয়। কিন্তু শুধু কাগজপত্রেই আইনটি আছে। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Leave a Reply