ঢাকাTuesday , 8 December 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

বৃহস্পতিবার দেবহাটায় তিন প্রর্থীর ভোটের লড়াই বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত যৌথ বাহিনী

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 8 December 2020, 21:04

মীর খায়রুল আলম : বৃহস্পতিবারে দেবহাটা উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে সকল ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ইতিমধ্যে যৌথ টহল দিতে শুরু করেছে। একই সাথে ভোট গ্রহণ নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। সব-মিলে সুন্দর ও শাস্তিপূর্ণ ভাবে দেবহাটা উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সকলে। এদিকে আগামী ১০ ডিসেম্বর এ উপ-নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে উপজেলাব্যাপী বিরাজ করছে নির্বাচনি আমেজ। ইতোমধ্যেই দেবহাটা উপজেলার অলি-গলি ছেয়ে গেছে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অংশ নেয়া তিন প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মুজিবর রহমান, আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম এবং আম প্রতীকের ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)র প্রার্থী অজিয়ার রহমানের নির্বাচনি প্রতীক সংবলিত পোষ্টার, ব্যানার আর লিফলেটে। প্রতিদিনই দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের নির্বাচনি মাইকিং, পথসভা, গণসংযোগ ও মতবিনিময়। বর্তমানে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটছে প্রার্থীদের। শুধু তাই নয়, জনসাধারণ ও ভোটারদের মন কাড়তে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রæতি নিয়ে লিফলেট হাতে ভোটারদের বাড়ি বাড়িতেও যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা। উপজেলার চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, অফিস পাড়া থেকে মাঠে ঘাটে কর্মরত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আসন্ন উপ নির্বাচন এবং প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা সমালোচনা। তবে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন লড়াই হবে নৌকা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সাথে। খোঁজ নিয়ে দেখ গেছে, উপ-নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ কারীদের মধ্যে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম ছিলেন। নৌকা প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক বিবেচনায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুজিবর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন তুলে দেন। এরপর বাকিরা মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেও নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি নৌকার বিপরীতে আনারস প্রতীক নিয়ে জয়ের আশায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নিজেকে জয়ী করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী মুজিবর রহমান। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সাথে মতবিনিয়ম ও পথ সভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। অপর প্রার্থী অজিহার অজিয়ার রহমানকে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিললেও তার এবং আনারস প্রতীকের প্রার্থীর বড় কোন পথসভা দেখা মেলিনি।
এদিকে উপ-নির্বাচন ঘিরে মাঠ ঘুরে দেখা মিলেছে বিভিন্ন হাল চিত্র। দেখা গেছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে চলছে আলোচনা, সমালোচনার ঝড়। কেউ বলছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুজিবর রহমান ইউপি সদস্য থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে টানা দুই বারের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সে কারণে তার জয়ের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। আর তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার আরো উন্নয়ন হওয়ার আশা দেখছেন অনেক ভোটাররা। অন্যদিকে আনারসের প্রার্থী ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদের ভাগ্নে হওয়ায় দলীয় ভোটারদের বাহিরে জামায়াত-বিএনপির একচেটিয়া ভোট পেয়ে জয়ী হতে পারেন বলে দাবি ভোটারদের।
উল্লেখ্য যে, সাতক্ষীরা জেলা তথা দেবহাটা জামাতের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এলাকা। কিন্তু ২০১৩-১৪ সালে দেশব্যাপী সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মামলায় জেলেও আত্মগোপন করে থাকার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। আর তাই আওয়ামী লীগের আত্ম-কোন্দলের সুযোগ নিতে পারেন অনেকেই। যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য আগামী দিনের হুমকি স্বরুপ হওয়ার সংশয় রয়েছে বলেও দাবি তৃণমূল আওয়ামী ভোটারদের।
উপজেলার নাম না প্রকাশের অনেক ভোটাররা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার আত্মীয় হওয়ায় ভোট নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন তারা। তাছাড়া নির্বাচনের প্রধান ২ প্রার্থী আওয়ামী লীগের হওয়ায় বিভ্রান্তে পড়তে হচ্ছে তাদের। এমনকি দলীয় কোন্দল ও ব্যক্তি শত্রæতায় জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। যার ফলে নির্বাচন পরবর্তী অনেককে এর খেসারত দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তাই কেন্দ্রীয় ভাবে এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করা না হলে আগামীতে দলীয় কর্মকান্ড বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমালোচনা ও বাধার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা। তাই এখন প্রার্থীরা মুখ চেয়ে বসে আছেন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ভোটারদের দিকে। ভোটাররা উপ-নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা না করতে পারে সে জন্য ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব মাঠে নেমেছে বলে জানিয়েছেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা। কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার অশান্তি করার চেষ্টা করবেন না। কারণ সব কিছু প্রশাসন পর্র্যবেক্ষণ করছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২ হাজার ৬ শত ৫৬ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫১ হাজার ৬ শত ১৭ জন ও মহিলা ভোটার ৫১ হাজার ৩৯ জন।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার জানান, ‘দেবহাটার মোট ৪০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণের সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। একই সাথে ভোট দিতে যেয়ে প্রত্যেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বলেও জানিয়েছেন তিনি। সব-মিলে এখন ১০ তারিখ বৃহস্পতিবার বহুল প্রতিক্ষিত দিনের অপেক্ষায় প্রার্থী ও ভোটাররা। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় উৎসব আমেজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করে আগামী দিনের দেবহাটার অভিভাবক নির্বাচিত করবেন উপজেলাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *