করোনার প্রভাবে বদলে গেছে সীমান্তবর্তী মানুষের পেশা
মাসুদ রানা মিঠু, বাঁশদাহ প্রতিনিধি : মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পড়েছে সাতক্ষীরা সদরের সীমান্তবর্তী এলাকা বাঁশদাহ, কুশখালী, বৈকারী ও ঘোনা এলাকার বেশিরভাগ মানুষ তাদের পেশা বদলাতে শুরু করেছে। ভারতীয় পণ্যের অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে কেউ দিনমজুর, কেউ ইজিবাইক চালক, কেউ মটর ভ্যানচালক কেউবা আবার রাজমিস্ত্রি ও কৃষি কাজের মধ্যে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। এছাড়া মাদকের জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের পুলিশের কঠোর ভূমিকায় অনেকেই ছেড়েছেন মাদকের ব্যবসাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁশদাহ এলাকার কাওনডাঙ্গা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পণ্যের ব্যবসা করতাম। যদিও ব্যবসা অবৈধ তারপরও অল্প পরিশ্রমে বেশি উপার্জনের আশায় ওই পথে নেমেছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ভারত থেকে অবৈধ পথে পণ্য সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় অন্য পথ বেছে নিয়েছি’। তিনি আরও জানান, ‘আমি বর্তমানে কৃষি কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। কৃষি কাজ করেই সুখী জীবনযাপন করছি’। হাওয়ালখালী গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, ভারতীয় বিভিন্ন অবৈধ পণ্যে ব্যবসা করতাম। অবৈধ উপার্জনে শান্তি নেই। তাছাড়া করোনার কারণে ভারতীয় ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ট্রলী চালিয়ে ভালোভাবে দিন পার করছি’।
গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের বাহাদুরের ছেলে আবদুল মান্নান জানান, ‘তিনি ভারতীয় অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চলমান করোনা পরিস্থিতি ও বর্ডার সিকিউরিটি মজবুত হওয়ায় এবং বিজিবি পুলিশ সীমান্তে তৎপর ভূমিকা পালন করায় ভারতীয় ব্যবসায়ে ধস নেমেছে। এজন্য আমিসহ অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছি’। তবে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা জানান, তার আর কখনো ভারতীয় পণ্যের অবৈধ পেশায় জড়াবেন না।
এ বিষয়ে বাঁশদাহ ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন তথা এই সীমান্তবর্তী এলাকায় অধিকাংশ মানুষ ভারতীয় অবৈধ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এখানে ভারতীয় কারবার নেই বললেই চলে। বর্তমানে এ সকল ব্যবসায়ীরা অন্যান্য পেশা বেছে নিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা কঠোর অবস্থান করি। মাদকের জিরো টলারেন্সের জন্য প্রশাসনের সাথে আমিও নিরলস কাজ করে যাচ্ছি’।

Leave a Reply