আশাশুনি সদরে নতুন করে আরও ৪ গ্রাম প্লাবিত
নিজস্ব প্রতিনিধি : শ্রীউলার প্লাবিত পানিতে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের ৮ গ্রামের পর নতুন করে আরও ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ১২ গ্রামের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানি-বন্দী জীবন যাপন করছে। ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক মাটির ঘর পড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের রান্না খাওয়ার জায়গা নেই। কোটি কোটি টাকার চিংড়ি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর জন্য সুধীজনদের আলোচনা সভা হলেও কোন সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বিল নাটানা, ডাঙ্গাকমলাপুর, হাড়িভাঙ্গা ও কোদÐা গ্রামের নিন্মাঞ্চল। গত ৩ দিনে সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা এখনও সেখানে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী গ্রামের ভেঙে যাওয়া খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি-বাঁধ দিয়ে পানি এসে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালের জোয়ারে আশাশুনি ইউনিয়নের কমলাপুর থেকে পুইজালা বাজারের ইটের সোলিং রাস্তার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আশাশুনি ইউনিয়নের খাসেরাবাদ, কমলাপুর ও ডাসেরআটি গ্রামের নিন্মঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। ওই রাতেই কমলাপুর কার্লভাট, বিলনাটানা কার্লভাটসহ খাসেরাবাদ গ্রামের ৩টি কার্লভাট দিয়ে পানি রাস্তার উত্তর পাশে ঢুকে সলুয়ার খালে পড়তে থাকে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জোয়ারের পানি উপরোক্ত কার্লভাট ছাড়াও খাসেরাবাদ গ্রামের জনৈক জগতের মৎস্য ঘেরের সামনের ও পুইজালা বাজার সংলগ্ন ইটের সোলিং ছাপিয়ে প্রবল বেগে রাস্তার উত্তর পাশে আশাশুনি সদর অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
ইউপি সদস্য দিলীপ মÐল জানান- আমার ঠাকুরাবাদ, দক্ষিন ও মধ্যম বলাবাড়িয়া, হাঁসখালী ও গাইয়াখালী গ্রাম সম্পূর্ণ ৬ নং ওয়ার্ডটিই পানি-বন্দী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ঠাকুরাবাদ গ্রামের পরিতোষ সানা, কাশীনাথ সরকার, সৌমেন মন্ডল, মধ্যম বলাবাড়িয়া গ্রামের জগদীশ সানা, ভবতোষ সানা, গাইয়াখালী গ্রামের প্রণব মন্ডল, পরিমল মন্ডলসহ অর্ধ শতাধিক পরিবারের মাটির ঘর পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান- আমার ওয়ার্ডের কমলাপুর, ডাঙ্গা কমলাপুর, ডাসেরআটী ও খাসেরাবাদ গ্রামের সব পরিবার এখন পানি-বন্দী। এর মধ্যে খাসেরাবাদ গ্রামের কার্ত্তিক মন্ডল, কেনারাম মন্ডল, দিলিপ, যুধিষ্ঠীর, অনিলের মাটির ঘরসহ শতাধিক মাটির ঘর পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। জগত মÐলের ঘেরের সামনের রাস্তাটি ভেঙে খালের সৃষ্টি হয়ে আশাশুনি সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন জানান- গতকালের পর বন্যার পানি এসে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বিল নাটানা, ডাঙ্গাকমলাপুর, হাড়িভাঙ্গা ও কোদÐা গ্রামের নিন্মাঞ্চল। ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক মাটির ঘর পড়ে গেছে বলে জেনেছি। বাকি যেগুলো আছে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। বন্যার পানি আটকানোর জন্যে রবিবার বিকালে হাড়িভাঙ্গা বাজারে আমরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম সাহেবকে প্রধান করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে বসেছিলাম। খুব দ্রæত কোন সমাধানে আসতে পারব বলে আশা করছি। গত তিন দিনে বানভাসি মানুষের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনও শুকনো খাবার অথবা সুপেয় পানির ব্যবস্থা টুকুও করা হয়নি। এসব মানুষের জন্য এখনও পর্যন্ত কোন বরাদ্দ আমার পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি। আমি আমার ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতি কথা বিবেচনা করে ৮০ মে.টন চাউলের চাহিদা দিয়েছি। তাই অনতিবিলম্বে এসব বানভাসি মানুষের জরুরী খাদ্য ও বাসস্থান সহায়তা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান- জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে প্রতাপনগরের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কারণে আমি সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে পারিনি। তবে আশাশুনির জন্যে ১০ মে.টন, প্রতাপনগরের জন্য ২৫ মে.টন, শ্রীউলার জন্য ২০ মে.টন ও আনুলিয়ার জন্য ৫ মে. টন চাউলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়াও আমরা শুকনা খাবার ও আরও চাউল বরাদ্দের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। সোমবার থেকে প্লাবিত (সদর) এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। দুঃশ্চিন্তার কোন কারণ নেই সরকারের পক্ষ থেকে বানভাসিদের জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply