জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা
ডেস্ক রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রেরণা। সৎ,নির্লোভ,অসীম সাহসী এই মানুষটির জীবনাদর্শকে আমাদের জীবনে লালন করতে হবে। মহান এই নেতার শোক দিবসে শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, উন্নয়নশীল সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে সাংবাদিকদের দেশের উন্নয়নের কথা বিশ্ববাসীর কাছে বেশি বেশি করে তুলে ধরতে হবে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজিত বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাব সভাপতি জি,এম নূর ইসলাম এসব কথা বলেন।
প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু’র পরিচালনায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম, সদস্য এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, শহিদুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান মধু, মনিরুজ্জামান তুহিন, আকরামুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে এখনো কয়েকজন বিদেশে পলাতক রয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে। খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। প্রেসক্লাব সভাপতি জি এম নূর ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির মর্যাদা তুলে ধরেছেন বিশ্ব দরবারে। বাঙালিদের পরিচিতি করিয়েছেন। মহান স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে রূপ দিয়েছেন। ১৫ই আগস্টের কালো রাতে যে সমস্ত বিপথগামী সেনা সদস্য বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল তারা জাতির কলঙ্ক।
তাদের প্রতি ঘৃণা ছুড়ে দিয়ে বক্তারা বলেছেন, ইতিহাসের এই বর্বর হত্যাকান্ডের বিচার করতে না দেওয়ার লক্ষ্যে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন জাতির পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ১৯৪৮ সালেই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষন দিয়ে তিনি বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত। শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতদের পক্ষে। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুসহ সেদিনের সেই ভয়াল কালো রাতে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অসুস্থ সাংবাদিক ও বিশ্ববাসীর জন্য। দোয়া পরিচালনা করেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল। এছাড়া, আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীর জনকসহ অন্যান্য শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply