ঢাকাSaturday , 25 July 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

পুলিশের প্রচেষ্টায় পথ হারা সিলেটের যুবক ১৪ মাস পর ফিরে গেল স্বজনদের ঠিকানায়

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 25 July 2020, 22:07

মীর খায়রুল আলম : প্রায় ১৪ মাস পূর্বে পরিবার থেকে নিখোঁজ হয় সিলেটের এক যুবক। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে অবশেষে চলে আসে সাতক্ষীরার দেবহাটায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই যুবককে একটি দোকানের সামনে শুয়ে থাকতে দেখে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে মৃত্তিকা মানবিক ইউনিটের নাজমুল ইসলাম নামের এক সদস্য। এরপর সিলেটের ওসমানিনগর থানার মোবারকপুর এলাকার মানসিক প্রতিবন্ধী আমিনুলের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নাজমুল। পরে আমিনুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যোগাযোগ করে সফল না হয়ে পরদিন জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করে আমিনুলকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে জাতীয় পরিসেবার মাধ্যমে দেবহাটা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। থানা থেকে আমিনুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এরপর সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহার প্রচেষ্টায় তার বাড়িতে খবর পৌঁছানো হয়। কিন্তু আমিনুলকে নিতে আসার মত অর্থ ছিল না তার পরিবারের। পরে অর্থ জোগাড় করে সিলেট থেকে দেবহাটায় এসে ১৪ মাস আগে সিলেটের ওসমানিনগর থানার মোবারকপুর থেকে হারিয়ে যাওয়া বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী যুবক আমিনুল ইসলামকে (২৫) গ্রহণ করে তার বাবা। সে ওসমানিনগর থানার মোবারকপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। শনিবার সকাল ১০ টায় দেবহাটা থানা ভবনে আমিনুলকে হস্তান্তর করেন ওসি বিপ্লব কুমার সাহা।

এদিকে তার পরিবার অত্যান্ত অসহায় হওয়ায় উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আমিনুল ও তার বাবাকে গাড়ি ভাড়া বাবদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। একই সাথে মৃত্তিকা মানবিক ইউনিটের পক্ষ থেকে আমিনুলকে নতুন পাঞ্জাবি, পাজামা, জুতা এবং তার বাবাকে লুঙ্গি ও গেঞ্জি উপহার দেওয়া হয়। এদিকে, বহুদিন পর হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে ভরে ওঠে নুরুল ইসলামের বুক। পাশাপাশি বাবাকে ফিরে পেয়ে হাসি ফোটে আমিনুলের মুখে।

আমিনুলের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, তার ৩ছেলে ৩ মেয়ের সবচেয়ে ছোট আমিনুল। পড়ালেখায় ছিল বেশ মেধাবী। সিলেটের একটি মাদরাসা থেকে আলিম পাশ করে আমিনুল। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছল্যতাসহ বিভিন্ন মানসিক দুঃচিন্তায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর লক্ষণ দেখা দিতে থাকে তার। বিগত প্রায় ১৪ মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে আমিনুল। সেখান থেকেই তাকে খুঁজছিল পরিবার। হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান নুরুল ইসলাম।

দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, বাংলাদেশ পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নে কাজ করছে। করোনা মহামারির মধ্যে ১৪মাস আগে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে তার পরিবারে ফিরিয়ে দিতে সফল হয়েছে। পুলিশ জনগণের যেকোনো সমস্যায় বন্ধুর মত পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশিং সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ৯৯৯ নাম্বার চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে মানুষ পুলিশ, হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাচ্ছেন খুবই কম সময়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *