Sunday, 6 September 2026

বুড়িগোয়ালিনীতে রাস্তা নির্মাণে দুই হাজার গাছ সাবাড়: অভিযোগের তীর ঠিকাদারের দিকে

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 27 June 2020, 21:30

জিএম মাসুম বিল্লাহ, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : সরকারি নির্দেশা যাই থাকুক রাস্তা নির্মানের জন্য গাছ তার কাটাই লাগবে। রাস্তা নির্মানের জন্য ছোট বড় ফলজ ও বনজ বৃক্ষ উজাড় করতেও পিচপা হওয়া চলবে না। এমনই এক বৃক্ষ বিনাশী ঠিকাদের নাম নুরুল হক মোল্যা। সরেজমিনে যেয়ে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবাটি গ্রামে দুই কিলোমিটার এলজিইডির কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সুবিধার্থে রাস্তার পাশে থাকা ছোট বড় দুই হাজারের অধিক গাছ কেটে সাবাড় করে দেওয়ার দৃশ্য চোখে পড়েছে।

এলাকাবাসির অভিযোগ বেশী লাভের আশায় রাস্তা নির্মাণকারী ঠিকাদার ও তার লোকজন এ হেন কাজটি করে যাচ্ছেন। সরকারিভাবে বিভিন্ন পর্যায় গাছ লাগানোর ক্যাম্পিং চালানো হচ্ছে কিন্তু সেটা না করে তার পরিবর্তে গাছ কেটেছে সংশ্লিষ্ট রাস্তা নির্মাণকারীরা এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধাবাদী স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন তাদের বাড়ির সামনের গাছগুলো কেটে নিয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা। নির্মাণাধীন রাস্তার গোড়া থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ডালিম ঘরামি সহ স্থানীয়রা বলেন, উপক‚লীয় অঞ্চল দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে গাছের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ বাঁচাতে গাছ আমাদের অনেক সহযোগিতা করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিসীম। আর এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটার জন্য পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। তারা আরও বলেন, যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে আগামী ১০-১৫ বছরে এগুলো লাগানো সম্ভব হবে না। রাস্তা নির্মাণ করতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সুবিধার্থে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে লাগানো গাছগুলো ভেকু মেশিন দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে দেওয়া আর পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া ছাড়া কিছুই না।

তবে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন বলেন, আমরা শুধুমাত্র দুই একটা গাছ কেটেছি বাকি গাছগুলো যাদের বাড়ির সামনে তারাই কেটে নিয়েছেন। গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নুরুল হক মোল্লা বলেন, আমরা গাছ কাটতে যাব কেন! মাটি কাটার কারণে দুই একটা গাছের ডাল কাটতে পারে তাই বলে ২ হাজার গাছ আমরা কাটিনি। স্থানীয় লোকজন গাছগুলো কেটে নিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবু ভবতোষ কুমার বলেন, দীর্ঘদিন পর রাস্তাটি কার্পেটিং হচ্ছে তবে মাটি কাটার কারণে যদি গাছ কাটা হয় তাহলে সেটা দুঃখজনক। বিষয়টি আমি আগামীকাল স্পটে যেয়ে দেখব।

এলজিইডির শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি যদি গাছ কাটা হয় তাহলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজার গিফারি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি দ্রæত পদক্ষেপ নিব যাতে গাছগুলো আর না কাটতে পারে’।

স্থানীয়দের দাবি যাদের ইন্ধনে পরিবেশ নষ্ট করে গাছ কেটে আমাদের দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে প্রশাসনিকভাবে তদন্ত করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *