নিজস্ব প্রতিনিধি : স্বামীর মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ খাদিজা খাতুন বাদী হয়ে নিজের মাদক ব্যবসায়ী স্বামী খড়িবিলা এলাকার আক্তার মোল্লার ছেলে আব্দুল হালিম ওরফে মাস্টার (৩১) ও তার বন্ধু ভোমরার নবাতকাটি এলাকার মো. ফারুককে (৪১) অভিযুক্ত করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর পূর্বে ভোমরার ফুলতলা এলাকার আরশাদ আলীর কন্যা খাদিজা খাতুনের সাথে খড়িবিলা এলাকার আক্তার মোল্লার ছেলে আব্দুল হালিমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দুইটি কন্যা সন্তান আছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ওই গৃহবধূর স্বামী তাদের ভরন পোষণ না দেয়ায় স্বামীসহ সন্তানদের নিয়ে ভোমরায় পিতার বাড়িতে থাকতেন।
অভিযোগে বলা হয়, হালিম ও তার বন্ধু ফারুক দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়িতেই মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তাদের নামে একাধিক মাদকের মামলাও আছে। তাদেরকে বার বার মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বললে ওই গৃহবধূর উপর তার স্বামী ক্ষিপ্ত হয় এবং মারপিট করে। বুধবার গভীর রাতে বাড়িতে মাদকদ্রব্য সেবন করার সময় ওই গৃহবধূ মোবাইলে ছবি তোলার চেষ্টা করলে তার স্বামী আব্দুল হালিম দেখতে পেয়ে স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখমসহ বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে পার্শ্ববর্তীরা ছুটে এলে আব্দুল হালিম তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করবে না, তালাক দেবে, মেরে ফেলবে এমন হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এদিকে গতকাল রাত ৯ টার দিকে খাদিজা খাতুন মোবাইল ফোনে সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে জানায়, অভিযোগ পেয়ে বিকালে থানা থেকে পুলিশ ঘটনা তদন্তে যায়। পুলিশ দেখে স্বামী আব্দুল হালিম ওরফে মাস্টার পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ চলে গেলে তাকে বেদমভাবে মারপিট করে আহত করে। এসময় স্বামী দম্ভ করে বলে পুলিশ আমার কি করবে। পুলিশকে তিন হাজার টাকা দিয়েছি। সে তোর বিপক্ষে রিপোর্ট দেবে। তুই কিছু করতে পারবি না।
প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় দফায় খাদিজা খাতুনকে মারপিট করে তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা, ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, আট আনা ওজনের কানের দুল, চার আনা ওজনের ও আড়াই আনা ওজনের ২ টা স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এর আগে মাদক ব্যাবসায়ী স্বামী তাকে ঘরের দরজা ভেঙে বলিশ চাপা দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে বলে জনান তিনি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আমি প্রাথমিক তদন্ত করেছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
