বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়ায় ধানকাটা শ্রমিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের মারপিটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গাংনিয়া গ্রামে চুক্তি মোতাবেক কাজের পাওনা টাকা চাওয়ায় ধান কাটা শ্রমিকসহ তার পরিবারের ৬ জনকে মারপিট করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন গাংনিয়া গ্রামের মো. মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই বাবলুর রহমান একই এলাকার আব্দাল খাঁর ছেলে সিরাজুল খাঁর কাছ থেকে চুক্তিতে ধানকাটার কাজ নেয়। কাজ শেষে টাকা চাইতে গেলে তারা চুক্তি মোতাবেক টাকা না দিয়ে কম দেয়। এতে প্রতিবাদ করলে সিরাজুল ও তার ছেলেসহ কয়েকজন আমার ছোট ভাই বাবলুসহ আমাদেরকে বেদম মারপিট করে।
এবিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবগত করালে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাদের সম্মান হানি করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ তুলে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বেপরোয়া ওঠে। এরই জের ধরে গত ৪ জুন রাত ৮টার দিকে সিরাজুল খাঁ, এয়াজুল খাঁ, রেজাউল খাঁ, সিরাজুল খাঁর ছেলে আক্তারুল খাঁ, এমরান খাঁ, এয়াজুল খাঁর ছেলে মহিদুল খাঁ, রেজাউল খাঁর ছেলে সাঈদ খাঁসহ অজ্ঞাত ৪/৫জন সন্ত্রাসীরা মারাত্মক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে আমার পিতাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমার ভাই বাবলুর রহমান, চাচী জোহরা খাতুন, চাচাতো ভাই আসাদুল ইসলাম, চাচা মনিরুল ইসলাম ও আমার পিতা মতিয়ার ঢালীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এসময় সময় তারা আমাদের বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া টিনের বাক্স ভেঙে নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের গহনা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
মো. আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আমরা অসহায় গরিব মানুষ অন্যদিকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের মারপিট করে উল্টো আমাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অত্যান্ত হিংস্র প্রকৃতির। তারা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। ফলে যে কোন সময় তারা আমাদের খুন জখম করতে পারে। তাদের ভয়ে আমরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply