পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ফের ভেস্তে গেল সৌখিন মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ফের ভেস্তে গেল পৌর দীঘিতে অনুষ্ঠিতব্য সৌখিন মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা। গত ৭ সেপ্টেম্বর ব্যর্থ হয়ে নতুন তারিখ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হলেও তাতে ব্যর্থ হলো তারা। এতে মৎস্য শিকারীদের বেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পৌর কাউন্সিলর কাজী ফিরোজ হাসান জানান, মাছ ধরা নিয়ে পুরনো শিকারী ও নতুন শিকারীদের মধ্যে বিরোধ বাঁধে। এজন্য গোলমাল দেখা দেওয়ায় মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে।
তবে, এবারের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সরকারি একটি সংস্থার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যরাতের মৎস্য বিলাসকে দায়ী করছেন টিকিট কাটা মৎস্য শিকারীরা।
জানা গেছে, সৌখিন শিকারীদের মতো একটি সরকারি সংস্থার শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা পৌর দীঘিতে মাছ ধরার খায়েশ প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতাও করেন। তবে গোলতাল বেঁধে যায় মৎস্য শিকারের সময় নিয়ে। তারা চান বৃহস্পতিবার রাতে মাছ ধরতে। অন্যরা বলেন মাছ ধরা শুরু হবে শুক্রবার কাকডাকা ভোরে।
ওই সংস্থার কর্মকর্তারা অন্য কারও সাথে মাছ ধরতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে রাতে কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পৌর দীঘিতে মাছ ধরতে মাচার ওপর বসে যান। গভীর রাত অবধি মৎস্য শিকার শেষে তাদের ফিরে যাবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে যায় তুমুল হৈ হট্টগোল। এতে ভেস্তে যায় তাদের মধ্যরাতের মৎস্য বিলাস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিকিটধারী অন্যান্য শিকারীরা ওই দপ্তরের কর্মকর্তাদের মৎস্য শিকারে বাধার সৃষ্টি করেন। তারা বলেন রাতে ছিপ বড়শি ও মশলা ফেললে এর ঘ্রাণে সব মাছ সেদিকে চলে যেতে পারে। ফলে সকালে মৎস্য শিকার ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। কারণ সব মাছ আগে ফেলা মশলার দিকে চলে যাবে। এ নিয়ে মধ্যরাতে শুরু হয় হৈ চৈ। শিকারীরা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে অশোভন বাক্য ছুড়ে দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা তাদের ছিপ বড়শি গুটিয়ে নিয়ে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই বিষন্ন বদনে ফিরে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, রাতে মাছ ধরতে বসায় কয়েকজন শিকারী বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলেছেন। এ জন্য তারা মাছ না ধরেই ফিরে গেছেন। এতে দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই মাছ ধরা উৎসব শুরু হবে।
এদিকে, একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সাতক্ষীরা শহরের পৌর দীঘিতে মাছ ধরার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ৭০টি টিকিট দেয়। তবে এবারের সব টিকিট সিন্ডিকেট করে সাতক্ষীরার পরিদর্শক মর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা কিনে নেন। পরে তিনিই বিভিন্ন দামে বিক্রি করেন টিকিটগুলো। শুক্রবার ভোরে লটারি করার কথা ছিল। শিকারীরা তাদের মতো করে দীঘির চারধারে মাছ ধরার মাচাও তৈরি করেন। তবে এবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মৎস্য শিকার আহবান না করায় শিকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। মাছ ধরার মাইকিং করার আগেই সব টিকিট সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন মৎস্য শিকারীরা।

Leave a Reply