শ্যামনগরে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ
শ্যামনগর অফিস : শ্যামনগরর বাদুড়িয়া মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তহমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে শিশুদের বিস্কুট চুরির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে ও সুশীলনের বাস্তবায়নে ছাত্র-ছাত্রীদের যে বিস্কুট দেয়া হয় তা না দিয়ে শিক্ষিকা তহমিনা খাতুন কম দিয়ে তা আত্মসাহ করেছে। এ কাজে তার স্বামী সহযোগিতা করে আসছে বলে অভিযোগ।
শিক্ষার্থী অবিভাবকরা জানান, গত ১০ মে বিস্কুট বিতরণে কম দেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, শিক্ষার্থীর মাঝে এক কালীন মাথাপিছু ৩২ প্যাকেট বিস্কুট বিতরণ করার নিয়ম থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানটিতে সহকারী শিক্ষিকা তহমিনা খাতুনের তঞ্চকতায় মাথাপিছু ১০/২৫ প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিস্কুট বিতরণ কম দেওয়ায় ঐ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সভাপতি আল আমিনের কাছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।
বিস্কুট কম দেওয়ার বিষয়টি সভাপতি আল আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে শিক্ষিকা তহমিনা খাতুনের মোবাইলে কল করে জানতে চাওয়ায় তিনি ও তার স্বামী ওসমান গণি বিভিন্ন ভাবে সভাপতিকে অপমান জনক কথা বলে নানাবিধ হুমকি প্রদান করেন। তহমিনার বাড়ি স্কুল নিকটবর্তী হওয়ায় ছাত্র/ছাত্রী বিহীন তার আত্মীয় ও স্বজনপ্রীতি করে লোকদের বিস্কুট দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিস্কুট কম দেন বলে এলাকাবাসী জানান।
প্রধান শিক্ষিকা শাহনার পারভীন বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পূর্বে তাহমিনা খাতুন প্রভাব দেখিয়ে বিস্কুট বিতরণ করেন। ইতিপূর্বে তাহমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আগমন-প্রস্থান না করা, ভালভাবে পাঠদান না করানো অভিযোগ রয়েছে।তার স্বামীর ও এলাকার প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হতে চলেছে।
সভাপতি আল আমিন জানান, শিক্ষিকা তহমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা শাহনার পারভীন জানান, বিস্কুট কম দেওয়া বিষয়টি তিনি জেনেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শিক্ষিকা তহমিনা খাতুন জানান, তিনি ও তার স্বামী সভাপতিকে রাগান্বিত হয়ে অপমান জনক কথা বলেছিলেন স্বীকার করলেও হুমকির বিষয়টি এড়িয়ে যান। এদিকে মধ্য আটুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরও তার বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৩২ প্যাকেট বিস্কুট না দিয়ে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দারিদ্র পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চলমান ছিল । কিন্তু দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ এর ব্যাপক বিস্তারের জন্য ১৬ মার্চ ২০২০ ইং তারিখ থেকে বাংলাদেশ সরকার সামগ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং শীর্ষক প্রকল্পের শিক্ষার্থীর মাঝে বিস্কুট বিতরণ কার্যক্রমও তাই সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। এতে প্রকল্প এলাকার শিশুরা বিদ্যালয়ে আসতে না পারায় এবং বিস্কুট না পাওয়ায় কাক্সিক্ষত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
শিশুরা তাদের প্রাপ্তি বিস্কুট থেকে যাতে বঞ্চিত না হয় এবং বাড়ি বসে পুষ্টি পেতে পারে সে জন্য সরকারের এই মহতী উদ্যোগ নেন। অথচ কতিপয় শিক্ষক কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের বিস্কুট কম দেওয়ায় মহতী উদ্যোগ কে ব্যাহত করছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

Leave a Reply