ঢাকাSaturday , 9 May 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সদর হাসপাতালের এক মেডিকেল অফিসারের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 9 May 2020, 19:44

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তৈয়েবুর রহমান গালিব’র আবেগ-ঘন ফেসবুক স্ট্যাটাসে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি তার ফেসবুক আইডির স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘চাকরিতে যোগ দেয়ার পর থেকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দূরে থেকে এই করোনা মহামারির ভিতরে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাকে এক ঔষধ দোকানি মেরে জামার বোতাম ছিঁড়ে দিয়েছে অথচ সিভিল সার্জনকে অবহিত করার পরেও উক্ত দোকানি নাকি অনেক প্রভাবশালী, এজন্য সিভিল সার্জন এই চিকিৎসকের মার খাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না’।

ফেসবুকের এমন স্ট্যাটাসের পর কমেন্ট বক্সে বইতে তাকে ধিক্কার আর নিন্দার ঝড়। এ ঘটনায় কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তৈয়েবুর রহমান গালিবকে মারপিট করেছে এক ঔষধের দোকানি শীর্ষক সংবাদও ছড়িয়ে পড়ে। আবার অভিযুক্ত ঔষধের দোকানিকে আটকের সংবাদও পরিবেশন করে অনেক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম।

তবে সিসি টিভির ফুটেজে বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য। ওই ঔষধের দোকানের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে মেডিকেল অফিসার ও দোকানির মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এমনকি উভয়ের কথা কাটাকাটির শেষে ওই মেডিকেল অফিসার দোকানির সাথে দুইবার হ্যান্ডশেক করে চলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. তৈয়েবুর রহমান গালিব জানান, ‘হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক রোগীর জন্য ব্যবস্থাপত্র দেখে নার্স জরুরী কিছু ঔষধ আনতে পাঠান রোগীর স্বজনকে। রোগীর স্বজনও ঔষধ নিয়ে ওয়ার্ডে ফেরেন। নার্স দেখলেন, এক ঔষধের পরিবর্তে অন্য ঔষধ দিয়েছে দোকানি। নার্স ঔষধটা বদলে আনতে বললেন। রোগীর স্বজনও পুনরায় দোকানে গিয়ে ঔষধ বদলাতে ব্যর্থ হয়ে ভারাক্রান্ত মন দিয়ে জরুরী বিভাগে ঘটনাটি জানায়।

তিনি বলেন, ওই লোকটিকে দেখে খুব অসহায় ও গরিব পরিবারের মনে হয়। ঘটনাটি আমাকে জানালে, আমি পুনরায় ওই দোকানে তাকে ঔষধটি বদলে আনতে পাঠায়। অসহায় মানুষটি পুনরায় ফিরে এসে জানায়, ঔষধ বদলে দেবে না আবার টাকাও ফেরৎ দেবে না। রোগীর স্বজনের কাছে টাকাও নেই। তখন অসহায় মানুষটির দিকে তাকিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোগীর স্বজনের সঙ্গে আমিও দোকানে গিয়ে ঔষধটি বদলে দিতে অনুরোধ করি। তখন ঔষধের দোকানদার মনিরুল সরদার ঔষধ বদলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে, ওই ঔষধ আমার এখানে নেই। তখন টাকা ফেরত চাই। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা চালায় ঔষধের দোকানি মনিরুল সরদার। ঘটনাটি আমি সিভিল সার্জন স্যারকে অবহিত করে এ ঘটনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছি’।

তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এস. এম ড্রাগ হাউজের মালিক মনিরুল সরদার বলেন, ‘হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাছাড়া সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ দেখলে সব বোঝা যাবে’।

হাসপাতালের সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার জানান, ‘ভুল বোঝাবুঝির একটা ঘটনা ঘটেছিলো। তাবে ফেসবুক স্ট্যাটাসের সাথে সিসি টিভির ফুটেজের মিল পাওয়া যায়নি। ওই মেডিকেল অফিসারের ওইভাবে মিথ্যা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়া ঠিক হয়নি। যে ছেলেটিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাকে ছেড়ে দিয়েছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *