সাংবাদিক নূরুন্নবী ইমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট : সাংবাদিক নূরুন্নবী ইসলাম ইমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। নূরুন্নবী ইসলাম ইমন সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা পত্রিকার সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি।
জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের মানিকখালী গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ হুমায়ুন কবির, ভেটখালী গ্রামের জি,এম আল মামুন ও তার দুই পুত্র আব্রাহাম লিংকন ও আশিকুজ্জামান লিমনের দীর্ঘ দিন যাবৎ মনোমালিন্য চলে আসছিল। ফেসবুকে মাঝে মধ্যে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করাই ছিলো তাদের নিত্যদিনের কাজ।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ফেসবুকে কুৎসা রটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার ভেটখালী বাজারে তারানীপুর গ্রামের মো: সবুর শেখের পুত্র মো: আলমগীর হোসেন বাবু ও মামুনের পুত্র আশিকুজ্জামান লিমনের ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। সংঘর্ষের সময় ঠেলা ধাক্কায় উভয় পক্ষের ৭ জন মৃদু আহত হয়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামুন পক্ষ শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় সাংবাদিক নূরুন্নবী ইমনকে মিথ্যা আসামী করা হয়েছে। প্রতাক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় নূরুন্নবী ইমন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিল। ঘটনা প্রতাক্ষকারী ভেটখালী বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন দুপুরের পর হতে সাংবাদিক ইমনকে বাজারে দেখা যায়নি।
নূরুন্নবী ইমনের স্ত্রী মোছা: জেসমিন নাহার রিপা জানান, তিনি উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ডিজটাল সেন্টারের উদ্দ্যোক্তা। গত মঙ্গলবার বিকাল তিনটা হতে ইফতারের আগ পযর্šÍ ত্রান বিতরনের তালিকা প্রস্তুতিতে স্ত্রীর কাজে সহায়তা করে স্বামী স্ত্রী একত্রে ইফতারের কিছুক্ষন আগে বাড়ীতে যান। পরে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন মোবাইল ফোনে সাংবদিক ইমনকে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তালিকা সম্পন্ন করার জন্য ফের পরিষদে ডেকে নেন। ইফতারের পরপরি তারা স্বামী স্ত্রী পরিষদে এসে রাত্র ২ টা পযন্ত তালিকার কাজ করেন।
ইউনিয়নের দফাদার মো: আব্দুল মান্নান, গ্রাম পুলিশ নিমাই বলেন, আমরা নূরুন্নবী ও তার স্ত্রীকে ইফতারের কিছুক্ষন আগে মানিকখালী দিয়ে তাদের নতুন বাড়ীর দিকে যেতে দেখেছি। গ্রাম পুলিশ মনোতোষ, গোপাল ও হাবিবুল্লাহ বলেন আমরা ইফতারের আগ পযর্ন্ত এক সাথে কাজ করেছি। ইফতার করার জন্য নূরুন্নবী ও তার স্ত্রী বাড়ীতে যায়।
ভেটখালীর মারামারি বা সংঘর্ষের সময় ওই সাংবাদিক সেখানে ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শী ভেটখালী গ্রামের মৃত আনছার গাজীর ছেলে মো: মোসলেম গাজী বলেন, আমি ভেটখালী মারামারির ঘটনায় প্রথম থেকে শেষ পযর্šÍ ছিলাম এবং উভয় পক্ষের মাঝ থেকে মারামারি নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিক নূরুন্নবী ইমন প্রথম থেকে শেষ পযন্ত ঘটনাস্থলে ছিল না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। জঘণ্য এ মামলার ঘটনায় তারা বাদীকে ধিক্কার জানান।
চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন বলেন , ভেটখালী বাজারের ঘটনায় সাংবাদিক নূরুন্নবী জড়িত না। তার স্ত্রী ও সে ইফতারের আগে ইফতার করতে বাড়ীতে যায়। তালিকা প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য উপরে চাপ থাকলে ইফতারের আগমুহুর্ত্তে আমি তার কাছে ফোন করি পরিষদে আসার জন্য ।
তখন সে বাড়ীতে ছিল এবং ইফতারের পরে তারা স্বামী স্ত্রী পরিষদে এসে রাত্র ২ টা পযন্ত তালিকা প্রস্তুতের কাজ করে বাড়ীতে যায়। অপর পক্ষে সোরা গ্রামের মো: ইমান আলীর পুত্র মো: সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামুন দিং এর বিরুদ্ধে পৃথক এজাহার দায়ের করেছেন ।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আলহাজ্ব নাজমুল হুদা বলেন তদন্ত করার পর প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অকারনে কাউকে হয়রানী করা হবে না। এছাড়া সাংবাদিক সাংবাদিক নূরুন্নবী ইসলাম ইমন ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলেও তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।

Leave a Reply