ঢাকাWednesday , 6 May 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কালিগঞ্জে নারী ইউপি সদস্যের পরিবারে সরকারি বিভিন্ন সুবিধার ৬ কার্ড

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 6 May 2020, 17:22

নিজস্ব প্রতিনিধি : কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগমের পরিবারের সদস্যের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্ব কালীন ভাতা ও সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ডসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ওই নারী ইউপি সদস্য প্রকৃত বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতীদের কার্ড না দিয়ে নিজের পরিবারেরই কার্ড বিতরণ করে নিজেই সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। পাশাপাশি জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ‘সেলিনা খাতুন ইউপি সদস্য হওয়ার পর তার স্বামী শেখ আজিজুর রহমানের নাম ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তালিকায় যুক্ত করে সরকারি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উল্লেখ্য ইউনিয়নের অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকার ৩য় পৃষ্ঠা ১৭ নং সিরিয়ালে তার স্বামীর নাম আছে। এছাড়া সরকারি খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা মূল্যের চাউলের কার্ডের সুবিধাভোগীর তালিকার ৮২২ নং সিরিয়ালে লিপিবদ্ধ করা আছে’।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে আরও জানা যায়, ‘ইউপি সদস্যর মাতা হামিদা খানম (৫৫) কে প্রতিবন্ধী তালিকায় নাম লিখিয়ে ভাতা তুলছে যা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকার ৩য় পৃষ্ঠা ১২ নং সিরিয়াল (মাস ১/১৯-৬/১৯)। পাশাপাশি তার বাবা শেখ আব্দুর রহমান (৬৫) তুলছেন নিয়মিত বয়স্ক-ভাতা যা ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতা’র তালিকার ১১ পৃষ্ঠায় ২৬ নম্বর সিরিয়ালে এবং একই নামে ১০ টাকার চাউলের কার্ড খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকার ৯৪৬ সিরিয়ালে লেখা আছে’।

এছাড়াও ওই নারী ইউপি সদস্যের বোন মোছা. শিরিন বেগম বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলায় স্বামী বাড়িতেই আছেন। কিন্তু তার বোনের নামে তারালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উঠছে নিয়মিত মাতৃত্ব কালীন ভাতা’র টাকা। যা ইউনিয়নের মাতৃত্ব কালীন ভাতা’র তালিকার ৪ পৃষ্ঠায় নম্বর ৫১ সিরিয়ালে লেখা আছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন ওই নারী ইউপি সদস্য ও তার পরিবার সচ্ছল হলেও তিনি কৌশলে সরকারি এসব সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এমনকি ওই ইউপি সদস্যের ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্তে¡ও তার মা বাবা বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ড, ১০ মূল্যের চাউলের কার্ড প্রতিবন্ধী ভাতা’র টাকা পাচ্ছেন। অথচ ওই এলাকায় একাধিক অসচ্ছল পরিবার আছে যারা একদিন কাজ না করলে তাদের পেটে ভাত জোটে না।

ওই নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আছে মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানায়, ‘সম্প্রতি দেবহাটার বহেরা চারাবটতলা গ্রামের এক কিশোরীর আত্মহত্যা কে কেন্দ্র করে তার এলাকার শেখ মোকলেছুর রহমান, শেখ রকিম, শেখ হান্নান, মো. নূর আলী মীর নামে কয়েকজন ব্যক্তিদের নামে মামলা হয়েছে মর্মে মিথ্যা বলে তাদেরকে মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরে উক্ত ব্যক্তিরা কেস এর কপি চায় তখন নানা টালবাহানা করলে অবশেষে ধরা পড়ে। পরে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে সমুদয় টাকা ফেরত দিয়ে আর কোন অপকর্ম না করার জন্য প্রতিশ্রæতি দিয়ে রেহায় পায়’।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সেলিনা খাতুন জানান, ‘আপনাদের প্রাপ্ত তথ্য আংশিক সত্য। কিছু কুচক্রীমহল আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য এমন মিথ্যাচার করছে’।

এসব বিষয়ে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে এসব তথ্যে সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ‘আমি সেলিনা বেগমের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি। তার বাবার নামের কার্ডটি তুলে নিতে চেয়েছে’।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, ‘ইউনিয়নের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিটি থাকে তিনি বিষয়টি দেখবেন। এছাড়া যারা বয়স্ক ভাতা’র টাকা পায় তারাও ১০ টাকা মূল্যের চাউলের তালিকায় থাকতে পারবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *