ঢাকাMonday , 4 May 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

মুন্সিগঞ্জে চলছে সরকারি খাস জায়গা ও বাজার দখলের মহা-উৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 4 May 2020, 18:26

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে খালের পাশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাস জায়গা ও বাজার দখলের মহা-উৎসব চলছে। হরিনগর আইবুড়ি নদীর পাশেও নতুন করে অবৈধ কাচা পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, হরিনগর স্লুইজগেট থেকে শুরু করে হাবিব নগর মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ টি নেট পাটা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। খালে নেট-পাটা ও খালপাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজও আবার দিনের আলোতেই চলছে। তাদের কাজে বাধা দেওয়ার কেউ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার জনৈক ব্যক্তি জানান, ‘কিছুদিন পূর্বে হাবিবনগর মাদ্রাসার পাশে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর ভেঙে দেয় মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই সেখানেই তৈরি হয় নতুন পাকা স্থাপনা। সেই স্থাপনায় আবার বহাল তবিয়তে দোকান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন’।

একই চিত্র বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে। কদমতলা খালের দু-পাশেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। এছাড়া খালের বিভিন্ন জায়গায় দেয়া হয়েছে নেট-পাটা। ফলে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে পলি জমে খাল ভরাট এলাকার মৎস্য ঘেরে পানি উঠাতে পারছেন না ঘের মালিকরা। স্থানীয় ঘের মালিকরা জানিয়েছেন, ‘ঘেরে নেট-পাটা দিয়ে ও খালের দুই ধারে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে সংকুচিত করা হচ্ছে খাল। ফলে আমরা স্বাভাবিক ভাবে মাছের ঘেরে পানি তুলতে পারছি না। এজন্য প্রায় সময়ে ¯øুইস গেটের পাটা উঠিয়ে ঘের গুলোতে পানি ঢোকাতে হয়’।

তারা আরও জানান, ‘বার বার ¯øুইস গেটের পাটা তুললে দুই পাশের হাতলসহ ইটের গাঁথনি, স্থাপনা দুর্বল যাচ্ছে। ইতোপূর্বে গাঁথনি নষ্ট হওয়ার ফলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনার ¯øুইজগেট ভেঙে শ্যামনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা সহ কালীগঞ্জের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এরইমধ্যে মুন্সিগঞ্জ ও চুনার ¯øুইস গেটের অবস্থা মারাত্মক নাজুক। ফলে পুরানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে’।

এসব বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আইনুল হক বলেন, ‘আমি সাত মাস এখানে দায়িত্ব পেয়েছি। করোনা পরিস্থিতির পূর্বে আমি বেশ কয়েকটি অবৈধভাবে স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিলাম। আমিও সব বিষয়গুলো শুনেছি, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে উচ্ছেদ অভিযানের নোটিস দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব’।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ‘কোন দখলদারের পক্ষে আমার অবস্থান নেই। কদমতলী খালের জবরদখল প্রক্রিয়ায় যারা মেতেছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যেটা করা দরকার তার পক্ষে আমি সর্বোচ্চ সমর্থনে আছি’।

তিনি জানান, ‘কদমতলী খাল দিয়ে এক সময় জাহাজ চলতো সেটিতে যদি এখন নৌকা বেঁধে যায় তাহলে আমাদের আফসোসের আর জায়গা থাকে না। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য তারাই যদি সরকারি সম্পত্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে দখলদারদের হাতে চলে যাবে কয়েক একর জমি। এভাবে চলতে থাকলে দখলদারদের দখলে চলে যাবে নদী ও খালগুলো’।

এ অবস্থায় অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সরকারি জমি দখল মুক্তসহ নদী-খালের পূর্বের খর¯্রােতা ও প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *