শ্যামনগরে করোনা মহামারিতে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে চলেছে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল
গাজী আল ইমরান, নিজস্ব প্রতিনিধি : (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাস মহামারিতে আতঙ্কিত মানুষ সাধারণ রোগের চিকিৎসা লাভে বিড়ম্বিত হচ্ছে। সমগ্র দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। সকল গণপরিবহন এক প্রকার বন্ধই বলাচলে। গুরুতর রোগী নিয়ে সাতক্ষীরা যাওয়া দুষ্কর। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পুরো শ্যামনগর ও আশাশুনির প্রান্তিক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর আশার স্থলে পরিণত হয়েছে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামারি দূর্যোগ মোকাবেলায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টার সাথে একাত্ম ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল শ্যামনগর আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিধিবদ্ধ ভাবেই। চীনের উহান পরিস্থিতির সময় বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্তের পর থেকেই (১৮ মার্চ ২০২০ইং) ফ্রেন্ডশিপ প্রধান কার্যালয়ের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণকরে।
এ সুরক্ষা যুগপত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর সাথে অভিভাবক বা সাহায্যকারী হিসেবে শুধুমাত্র একজনকেই হাসপাতালে প্রবেশ সীমাবদ্ধ ও মাস্ক ব্যতিরেকে হাসপাতালে প্রবেশ সংরক্ষিত করা হয়।
আগতদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে মাস্ক সরবরাহ, প্রবেশকারীদের হাসপাতাল ভবনের বাহিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং হাসপাতালের জীবাণূমুক্ত স্যান্ডেল পড়া নিশ্চিত করণ, রোগীর জ্বরআছেকিনা তা থার্মাল স্ক্যানার এর মাধ্যমে নিশ্চিত করে হাসপাতাল ভবনে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া, জ্বর-সর্দি-কাশি-শ্বাসকষ্টেআক্রান্ত রোগীদের পৃথক চিকিৎসা প্রদানের জন্য করোনাভাইরাস ডেস্ক চালু, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তিনফুট দূরত্বে গোলচিহ্নিত স্থানে রোগীদের বসার ব্যবস্থা করা, রোগীদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টির জন্য ফেস্টুনের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে করণীয় ও অবশ্য পালনীয় বিষয় সমুহ প্রচার করা হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে করোনা ডেস্কে আগত রোগীদের সেল্ফ আইসোলেশন সম্পর্কিত লিফলেট প্রদান সহ রোগী চিকিৎসায় ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল এসিষ্ট্যান্টদের ভূমিকা অপরিহার্য। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কেউ আক্রান্ত হলে রোগীদের মাঝে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে সর্বাধিক। এ বিষয়টি চিন্তা করে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রোগীদের সুরক্ষারপাশাপশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানেরমাধ্যমে।
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এর পরিচালক ডাঃ লেঃ কর্ণেল (অবঃ) মোঃ মোজাহেদুল হককে প্রশ্নকরলে তিনিবলেন, আমরা স্বাভাবিক সকল সার্ভিস চালু রেখেছি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে। এমনকিআমাদের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে এখন সিজার অপারেশন, এ্যপেন্ডিকস এর মত জরুরী অপারেশন গুলোও করাহচ্ছে। সার্ভিস বন্ধ রাখলে এ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষগুলো জরুরী অবস্থায় যাবে কোথায় এ কথা চিন্তা করে বরাবরের মতই ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ২৪ ঘন্টা জরুরী বিভাগ চালু রাখার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
এসময় তিনি আরো বলেন, পরম করুণাময়ের কাছে শুকরিয়া এমন কঠিন অবস্থায়ও মানুষকে সেবা দেওয়ার তৌফিক আমাদের দিয়েছেন।ভাই সম্ভব হলে আপনার পত্রিকার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে জানিয়ে দিন সরকারের স্বাস্থ্য সেবা সহযোগী হিসেবে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা চালু রেখেছে।
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তি আব্দুল ওহাব বলেন, হাসপাতালটি করোনা পরিস্থিতিতেও প্রান্তিক মানুষের সেবা করে চলেছে সম্পূর্ণ মানদন্ডবজায় রেখে, এ যেন অন্ধকারের মাঝে আলোরদিশা বলে মনে হয়েছে।

Leave a Reply