ঢাকাSaturday , 25 April 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সমন্বিত ত্রাণ সহায়তা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চত করা না গেলে পরিস্থির বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 25 April 2020, 19:47

মীর খায়রুল আলম : হাহাকার থামছে না কর্মহীন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের। লকডাউনে কর্মহীন হওয়ায় উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। এতে সমকালীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের। এমনকি চরম খাদ্যে সংকটে পড়েছেন একটি বৃহত জনগোষ্টির মানুষ। সরকারি, বে-সরকারি ভাবে ত্রান দেওয়া হলেও তা খুবই কম সংখ্যক মানুষের ভাগ্যে জুটছে।

সারাদেশে যখন করোনা প্রতিরোধে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত শ্রমিক শ্রেণির মানুষ ঘরমুখি হয়ে ওঠেছে। আর তাই এসব মানুষ বাড়িতে ফিরছে। নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর অনেকে চোরাই পথে পালিয়ে বাড়িতে ফিরছে তারা। আর এতে ভয় আর আতংঙ্ক দিনে দিনে বাড়ছে।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাস বহন করে আনছেন না তারই বা কোন নির্দিষ্ট হিসাব নেই। আর এসব ব্যক্তিরা বাড়িতে ফিরে ১৪দিন কোয়ারান্টেইনে থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশরা তা মানছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় তারা অবাধে ঘোরাফেরা করতে পারেছে। যে কারণে তাদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস বিস্তার করতে পারে বলে সংশয় তাদের।

এদের মধ্যে বেশিরভাগ লোক ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মাদারিপুর, কুমিল্লা, চিটাগাং সহ বিভিন্ন জায়গাতে ইটভাটা, কলকারখানাতে কর্মরত ছিলেন। এসব ব্যক্তিদের অধিকাংশরাই স্বল্প শিক্ষিত বা নিরাক্ষর হওয়ায় তাদের ভিতর সচেতনতা নেই বললে চলে। গ্রামঞ্চলগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি কম হওয়ায় বিভিন্ন দোকানগুলোতে কিছু কিছু স্থানে এখনো গল্পের আড্ডা, খেলার মাঠে খেলা চলমান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কিছু কিছু বাজারগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম।

আবার অনেক স্থানে এই সুযোগে বসছে জুয়ার আসর। স্থানীয়দের দাবি এলাকা ভিত্তিক লকডাউন করা হোক যাতে কেউ কারো এলাকা অতিক্রম করতে পারবে না। সেই সাথে ভ্রাম্যমাণ বাজার চালু ও খাদ্য সামগ্রী বাড়িতে বাড়িতে সরবাহ করার আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে করোনা সন্দেহে এ পর্যন্ত সবগুলো নমুনা নগেটিভ আসায়। করোনা নিয়ে আতংঙ্কিত না হওয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরাও সুস্থ ভাবে বাড়িতে ফিরেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্য্যলয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে ভারত, কুয়েত, জর্ডান, মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কুলিয়া ইউনিয়নে ৯৪জন, পারুলিয়ায় ৫২জন, সখিপুরে ৮৪জন, নওয়াপাড়ায় ১০১জন এবং সদর ইউনিয়নে ৪৭জন দেশে ফেরে। এদের প্রত্যেকে হোম কোয়ারান্টেইনে রাখা হয়। এছাড় গত ২২এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জেলা থেকে কুলিয়া ইউনিয়নে ৯১জন, পারুলিয়া ইউনিয়নে ২২৪জন, সখিপুর ইউনিয়নে ১৮৯জন, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ৩৩জন এবং দেবহাটা সদর ইউনিয়নে ১৭৪জন বাড়িতে ফিরেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শফিউল বশার জানান, জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া বরাদ্ধ থেকে উপজেলার ৫ইউনিয়নে ৩০ হাজার টাকার শিশু খাদ্য, ৭২ হাজার টাকা নগদ এবং ৫১ মেট্রিক টন চাউল বিতরন করা হয়েছে। যার মধ্যে কুলিয়ায় সাড়ে ৮ মেট্রিক টন, পারুলিয়ায় ১২ মেট্রিক টন, সখিপুরে সাড়ে ৯ মেট্রিক টন, নওয়াপাড়ায় সাড়ে ১১ মেট্রিক টন এবং দেবহাটা সদরে সাড়ে ৯ মেট্রিক টন চাউল বিতরন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮শত পরিবারে ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন, তেল ১ লিটার, সাবান ১ পিচ প্যাকেজ ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে।

এর বাহিরে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণির ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৪শত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জিএম স্পর্শ, জেলা পরিষদের সদস্য আলফেরদৌস আলফা, কুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আছাদুল হক, কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, দেবহাটা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরন করেছেন। পাশাপাশি দেবহাটা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি শেখ ইয়াসিন আলী ও ওসির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে।

দেবহাটা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ৮ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ৪ কেজি আলু, সাবান ১ পিচ ও ১ লিটার তেল প্যাকেজ ভিত্তিতে ৩শত পরিবারের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। সরকারি বে-সরকারি ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চালু থাকলেও অসংখ্য মানুষ এই সেবার বাহিরে রয়েছে। তবে সমন্বয়হীন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় রয়েছে নান অভিযোগ। তবে প্রান্তিক পর্যয়ে যে সব তালিকা হয়েছে সেখানে স্থানীয় মেম্বরদের কাছের লোকের নাম দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন অনেকে। এমনকি একই ব্যক্তিদের বিভিন্ন ভাবে সরকারি সহায়তা প্রদান করেন করেন মেম্বররা। অন্যদিকে অনেক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যারা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের দেওয়া তালিকা চুড়ান্ত করে জমা দেন।

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, আমরা মহামারি করোনা প্রতিরোধে মাঠে জীবনবাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে অসহায়, কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান কাজ অব্যাহত রেখেছি। আপনারা ঘরে থাকুন, সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখুন। যাতে সহজে দেশ থেকে করোনা মুক্ত করতে পারি।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীনের সাথে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *