ঢাকাSaturday , 25 April 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ভারত-বাংলাদেশের উপর হামলে পড়তে পারে পঙ্গপালের দল

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 25 April 2020, 18:13

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে গিয়ে যখন হিমসিম খাচ্ছে যখন সারা বিশ্ব ঠিক তখনই ভারত ও বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে আরেকটি ভয়ঙ্কর বিপদ। যে কোনও সময় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ দুটির উপর হামলে পড়তে পারে পঙ্গপালের দল। এই খবর জানিয়েছে ভারতের ইংরেজি ভাষার সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু। যে বিপদের আশঙ্কা ইতিপূর্বেও করা হয়েছিল।

ভারতের হিন্দু পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে একদল পঙ্গপাল সরাসরি ভারত উপদ্বীপের কৃষিজমিতে নেমে পড়তে পারে। এরপরই ছুঁটে আসবে বাংলাদেশের দিকে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারত যখন প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে তখন দেশটির দিকে ধেয়ে আসছে আরেকটি ভয়াবহ বিপদ। এ গৃষ্মেই ভারতের কৃষি জমিগুলোতে হামলে পড়তে পারে পঙ্গপাল। সরকারি সূত্র জানায়, দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার। একটি হচ্ছে চলমান করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে আর অন্যটি হচ্ছে পঙ্গপালকে প্রতিরোধ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

সূত্রটি জানায়, হর্ন অব আফ্রিকা থেকে একদল পঙ্গপাল গতিপথে মরু অঞ্চলের আরেকদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হানা দিচ্ছে। এদের একটি ঝাঁক ইয়েমেন, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ইরান, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান হয়ে ভারতে হানা দিচ্ছে। এরা ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ঢুকছে। অন্যদলটি ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে সরাসরি ভারত উপদ্বীপের কৃষিজমিতে নেমে পড়তে পারে। এরপরই যাবে বাংলাদেশের দিকে। উভয় ঝাঁকের সম্মিলিত হামলায় ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির নীতি নির্ধারকরা।

গত ২১ এপ্রিল জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মরুর পঙ্গপাল যারা এ বসন্তে পূর্ব আফ্রিকা, ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইরানে হানা দিয়েছে। আফ্রো-এশীয় অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও তারা বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশেও আক্রমণ হতে পারে পঙ্গপালের। এ আশঙ্কা ইতিপূর্বে দেশের কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে করা হয়েছিলো। যেহেতু পঙ্গপালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাতাসের উষ্ণতার গতি অনুযায়ী চলাফেরা করে এবং এক জায়গার খাবার ফুরালেই নতুন জায়গার খোঁজ করে, সে কারণে কৃষি অধিদপ্তরের আশঙ্কা ওরা বাংলাদেশেও হানা দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, পঙ্গপাল হচ্ছে এক জাতের ঘাসফড়িং। ইংরেজিতে যাদের বলে লোকাস্ট। স্বভাবে কিছুটা লাজুক প্রকৃতির এই পতঙ্গ ইঞ্চি খানেক লম্বা হয়ে থাকে। খাবারের খোঁজে এরা ঝাঁকে বেঁধে বেড়ায়। সাধারণত একেকটা ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে এক হাজার কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। এই বিশাল পতঙ্কের ঝাঁকটি পঙ্গপাল হিসাবে পরিচিত। সাধারণতঃ একটি পূর্ণ বয়স্ক পঙ্গপাল প্রতিদিন তার ওজনের সমপরিমাণ খাদ্য খেয়ে থাকে। যে অঞ্চলে তারা আক্রমণ করে, সেখানে খাদ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অঞ্চলে যায় না।

সাধারণত একেক ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে এক হাজার কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। তখন একে পঙ্গপাল বলে। পঙ্গপাল যখন ফসলের ক্ষেতে আক্রমণ করে, তখন তা একজন কৃষকের জন্য রীতিমত দুঃস্বপ্নের বিষয় হয়ে ওঠে।

একটি পূর্ণ বয়স্ক পঙ্গপাল প্রতিদিন তার ওজনের সমপরিমাণ খাদ্য খেতে পারে। যে অঞ্চলে তারা আক্রমণ করে, সেখানে খাদ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অঞ্চলে যায় না।

এফএও বলছে, এক বর্গকিলোমিটার আকারের পঙ্গপাল এক সঙ্গে যে খাবার খায় তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব। একটি বড় পঙ্গপাল দিনে ১২০ মাইল পর্যন্ত জমির ফসল খেয়ে ফেলতে পারে। কেবল খাবারই খায় না তারা, একই সঙ্গে প্রজননের কাজটিও করে। সূত্র: দ্য হিন্দু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *