কালিগঞ্জে সাঁড়াশি অভিযানে একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা
শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রির অভিযোগে কালিগঞ্জে একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পৃথক অভিযানে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌতলা, তারালী, কদমতলা ও রতনপুর বাজারের ১০ ব্যবসায়ীর নিকট থেকে মোট ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) সকালে কালিগঞ্জের সর্ববৃহৎ কাঁচামালের বাজার হিসেবে খ্যাত মৌতলা বাজারে উপজেলা কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় আড়তদার মধুসূদন ঘোষ ও মোহাম্মদ আব্দুল খলিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করায় তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পরবর্তীতে একই আদালত উত্তর কালিগঞ্জ তারালী মোড়ের পাশে অবস্থিত চাউল ব্যবসায়ী বরুণ ঘোষকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক রাসেল উপজেলার পাউখালি, মৌতলা, তারালী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বেশি দামে চাউল বিক্রির অভিযোগে তারালী মোড়ে অবস্থিত চাউল ব্যবসায়ী জহুর আলীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে তারালী মোড়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হুসেন, উপ-পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুস সোবহান প্রমুখ। এর আগে নির্বাহী অফিসার শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে কালিগঞ্জের রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর ও কদমতলা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৬ ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন। ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৩৮ ধারায় ১১ ও ১২ নম্বর পৃথক মামলায় কদমতলা বাজারে ৪০ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকায় বিক্রির অপরাধে
৪ জনকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা এবং রতনপুর বাজারে ১১০ টাকার রসুন ১৫০ টাকা বিক্রির অপরাধে ২ জনকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, খুব্দীপুর গ্রামের মৃত মনোহার গাইনের ছেলে মোক্তার হোসেন গাইন, কাটুনিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আসাদুল ইসলাম, একই গ্রামের নুর মোহাম্মাদের ছেলে ওমর সানি ও নুরুল আফসারের ছেলে হাবিবুল্লাহ, রতনপুর গ্রামের মজিদ খলিফার ছেলে মশিউর রহমান ও মহিষকুড় গ্রামের মৃত বখশ গাজীর ছেলে মমিন আলি গাজী। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী উপস্থিত থেকে সকলকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহŸান জানান। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন, থানার উপ-পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম, আসমত আলী ও সহকারী উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply