প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সদরের বাইপাস সড়কে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবর দখল করে নিয়েছে বিক্রেতার ছেলেরা। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা সদরের কুচপুকুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে মো: আব্দুল হামিদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পিতা আব্দুর রহিম ১৯৬৪ সালের ১৩ জানুয়ারি একই গ্রামের কালু কাহারের কাছ থেকে ৬৬ শতক জমি ক্রয় করেন। সদরের ৪৭ নং বাবুলিয়া মৌজায় ৮০০ খতিয়ানের অধীন ৭১৭ খতিয়ানে ৯২৭ দাগে ২ একর ৮ শতক জমির মধ্যে এই ৬৬ শতক জমি ক্রয়কৃত। ১৯৯০ সালের হাল রেকর্ড অনুযায়ি জমির হাল দাগ ১৫৫ নং খতিয়ানে ৪৪৬ নং দাগ। সম্পত্তি ক্রয়ের পর থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি।
তবে, ৬৬ শতক জমির মধ্যে ২৭ শতক জমি বাইপাস সড়কের জন্য সরকার অধিগ্রহণ করে নেয়। নিয়মানুযায়ি আমরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণের টাকাও পেয়েছি। এমতাবস্থায় ২০১৭ সালে কালু কাহারের ৫ পুত্র নাজের আলী ওরফে নবের, মোশারফ হোসেন, আমের আলী, মোমিন আলী ও এরশাদ আলী আমার পিতার ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবর দখলের পায়তারা শুরু করে। জমির পাশে তাদের বাড়ি হওয়ায় তারা রাতের আঁধারে একটু একটু করে জমি দখল করতে থাকে। জমিতে লাগানো আমাদের ৩০ টি মেহগুনি গাছসহ অন্যান্য গাছ ও ফসলাদি কেটে নেয়। এমনকি ওই জমিতে বাড়ি করার জন্য রাখা এক ট্রাক বালিও তারা চুরি করে নেয়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তারা দলবদ্ধভাবে মাথায় গামছা বেঁধে হাতে দা নিয়ে ছুটে আসে খুন করার জন্য। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তারা।
আমরা শান্তি প্রিয় মানুষ। তাদের এমন ব্যবহার ও জবর দখলে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। তিনি আরো বলেন, জমি জবর দখল করার পাশাপশি কালু কাহারের পুত্র আমের আলী বাদী হয়ে ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি সিভিল মামলা করে। এই মামলায় তারা হেরে যায়। এরপর আমরা ২০১৮ সালে সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা দায়ের করি।
মামলায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমাদের পক্ষে রায় দেন। এরপরও দখলকারীরা দখল ছাড়েনি। উল্টো আমরা জাল দলিল করেছি মর্মে দখলকারীরা আমাদের বিরুদ্ধে একই আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। গত ৮ মার্চ এর রায়ে তাদের দায়েরকৃত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। জবর দখলকারিদের কাছ থেকে ন্যায্য সম্পত্তি ফিরে পেতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলেন আরো উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল হামিদের ভাই আব্দুল কাদের ও আব্দুস সামাদ।

Leave a Reply