চাকুরি দেয়ার নামে আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলন
ডেস্ক রিপোর্ট : যশোরের কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পরিষদের সভাপাতি ও অন্যদের বিরুদ্ধে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তালা উপজেলার শিরাশুনি গ্রামের মৃত জমির মোড়লের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হিজলডাঙ্গা মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের মানবিক শাখায় কম্পিউটার প্রদর্শক পদে চাকুরি দেয়ার নামে কলেজের উন্নয়নের কথা বলে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক এমপি হিজলডাঙ্গা গ্রামের মাও. শাখাওয়াত হোসেন, অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমানম মো. আব্দুল ররিক মোড়ল এবং মো. আব্দুল আজিজ মোড়ল আমার কাছ থেকে ২০০৩ সালের ২৬ জুন থেকে তিন দফায় এক লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।
এছাড়া হিজলডাঙ্গা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (বর্তমানে সরকারি) সহকারী শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনের পরিবর্তে উক্ত পদে আমার স্ত্রী সালমা আক্তারকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাও. শাখাওয়াত হোসেন, প্রধান শিক্ষক মো. সাজ্জাদ হোসেন, ররিক মোড়ল ও আজিজ মোড়ল ২০০৪ সালের ১৯ মে থেকে তিন দফায় এক লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০০৪ সালে যখন কলেজ এমপিওভূক্তকরণ হয় তখন আমার কাক্সিক্ষত পদে আমাকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্য লোকের নামে এমপিওভূক্ত করেন।
একই সাথে আমার স্ত্রীকে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি না দেয়ায় আমি দুই লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে উল্লেখিতরা টাকা না দিয়ে তাল-বাহানা শুরু করে। এমতাবস্থায় টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা পরিষদের সাবেক ও বর্তমান কমিটির কাছে মৌখিক ও লিখিত আবেদন করলেও তারা কোন সমাধান দিচ্ছে না। পরে তেঁতুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মিয়াজান মোড়লের কাছে আবেদন করলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য উল্লেখিতদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। এরপরও তারা টাকা ফেরত না দেয়ায় চেয়ারম্যান আমাকে একটি লিখিত প্রতিবেদন দেন।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম আরও বলেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান আমাকে নতুন করে চাকুরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে চেকের মাধ্যমে তার প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তারের মেয়ে নারগিস আক্তারের নামীয় সোনালী ব্যাংক কেশবপুর শাখার ০০২১৭৬৩৩৭ নং হিসাবে টি.টি মারফত আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু সময় মত চাকুরি দিতে না পারায় আমি টাকা ফেরত চাইলে তারাও তাল-বাহানা করতে থাকেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাইনি। উল্টে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রতারণার মাধ্যমে আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ায় বর্তমানে আমি অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছি’। তিনি প্রতারণা-মূলক-ভাবে আত্মসাতকৃত দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রী, জন-প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, যশোর জেলা প্রশাসক, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply