এস এম মোস্তফা কামাল, শ্যামনগর : গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে ভূ-পৃষ্ঠের বরফ স্তর অ-স্বাভাবিকভাবে ৬ শতাংশ হারে গলে পানিতে পরিণত হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে সাগর ও নদীর পানি। বঙ্গোপোসাগর উপক‚লবর্তী শ্যামনগর বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ হওয়ার কারণে এদেশের ভিতর ও সীমানা দিয়ে শিরা উপ-শিরার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু নদ-নদী। এক সময় যে নদীগুলো ছিল নব যৌবনা তাই এখন যৌবন হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। হারিয়েছে প্রস্থ ও গভীরতা। জোয়ার-ভাটা নদীভাঙন ও অতিরিক্ত পলি বহনের কারণে নদীগুলোতে চর জমেছে। নদীগুলো দিন দিন সংকীর্ণ ও ভরাট হচ্ছে, সাথে সাথে পরিবর্তন করছে গতিপথ। শ্যামনগরের আশেপাশের নদীগুলো মালঞ্চ, কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কামশিয়ালী, ঝুরঝুরিয়া, গলঘোরিয়া, মাদার নদী ও কালিন্দী নদীগুলোর আজ করুন দশা। এর মধ্যে কয়েকটিতো পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যায় আর কয়েকটি শুধুমাত্র নামেই টিকে আছে। এক সময় এসব বড় বড় নদীগুলোর শাখা প্রশাখারও নামডাক ছিল। নদীর তলদেশ ও পার্শ্ববর্তী তীরে পলি পড়ে চর পড়ার কারণে ও কিছু স্বার্থান্বেষী ভূমি দস্যুদের নজরে পড়ে দিন দিন বেদখল হচ্ছে। উপক‚ল-বাসী আয়লা, সিডর আক্রান্ত ভুক্তভোগী মানুষ অভিযোগ করে বলেন, নদীভাঙন ও পলি জমার কারণে নদীগর্ভের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী হচ্ছে সংকীর্ণ। ফলে জোয়ার ভাটা, জলোচ্ছ¡াস, কালবৈশাখী সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনগুলোতে পানির স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও এসব নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। দেখলেই মনে হবে ভেড়ী বাঁধগুলো উপচে পড়ে পানি যে কোন মুহ‚র্তে লোকালয় প্লাবিত করবে। যদি এমনটাই হয় তবে এসব অঞ্চলের বহু মানুষের জীবন, মৎস্য ঘের, স্কুল, কলেজ, রাস্তা-ঘাট অকল্পনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আইলা, সিডর পরবর্তী বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন আশ্বাস পেলেও তা বাস্তবায়নে আজও কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।
