ঢাকাFriday , 6 March 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কলারোয়ায় গোপালগঞ্জ জেলার ৫ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার গণকবর একজন জীঁবিতসহ মাটি চাপাঁ দেয় হানাদার বাহিনী

admin ঢাকা
আপডেট: 6 March 2020, 22:43

নিজস্ব প্রতিনিধি :: বছরের বিশেষ একটি দিনে নয়, ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার, শহীদ বীর মু্িক্তযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতার গণকবর ও বধ্যভূমিগুলি সংরক্ষনের মাধ্যমে কলারোয়ার নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধে সঠিক ইতিহাস জাননোর উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, গোপলগঞ্জ জেলার পাঁচ বীর সন্তনকে পাক-বাহিনী গুলি করে হত্যা এবং এরমধ্যে একজনকে জীবিত অবস্থায় কলারোয়া সরকারি পাইলট হাইস্কুল ফুটবল মাঠের দক্ষিণ পাশে মাটি চাঁপা দেয় দেয়। নির্মম এই ঘটনাটি কলারোয়ার অধিকাংশ নতুন প্রজন্মই জানে না। মহান মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়া উপজেলার সঠিক ইতিহাস, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা শহীদদের গণকবর ও বধ্যভুমি সংরক্ষন এবং বীর শহীদদের পরিচয় নতুন প্রজন্মকে জানানোর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করা না হলে গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচ বীর শহীদের মতো উপজেলায় অনেক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তরুনদের কাছে অজানা থেকে যেতে পারে এমন আশংকা প্রকাশ করেন সুশিল সমাজের এসব প্রতিনিধিরা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পাক-বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় কলারোয়া থানার পিছনে (সরকারি হাইস্কুল ফুটবল মাঠের দক্ষিনে) গোপালগঞ্জ জেলার ৫জন বীর-সেনানীকে সারিবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তবে এরমধ্যে একজন জীবিত থাকলেও উক্ত স্থানে তাঁকে জীবিতসহ ৫জন শহীদকেই স্থানীয় মজুরদের দিয়ে গর্ত করিয়ে মাটি চাপা দেয়। সেসময় গণকবর খননকারী কলারোয়ার মজুর প্রয়াত অমেদালী মৃত্যুর আগে এ’ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মাটি চাঁপা দেয়ার পূর্বে ১জন তরুন গুলিবিদ্ধের পরও জীবিত ছিল, তারপরও নরপশুরা ওই তরুণকে জীবন্ত মাটি চাপা দেয়। এর আগে একজন অধ্যাপকসহ খুলনা দৌলতপুর বিএল কলেজের ৯/১০জন ছাত্র (সবাই গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা) মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য ভারত যাওয়ার পথে কলারোয়া-সরসকাটি সড়কের বামনখালী বাজারে পাক-বাহিনীর হাতে তারা আটক হন। পরবর্তীতে তাদের থানায় নিয়ে আসার পথে অধ্যাপকসহ ৩/৪ জন পালিয়ে যেতে স্বক্ষম হলেও ৫জন শহীদকে নির্মম ভাবে হত্যা করে মাটি চাপা দেয় পাক-বাহিনী। এই গণকবরের প্রকৃত ইতিহাস জানেন না কলারোয়ার নতুন প্রজন্মসহ অধিকাংশ জনসাধারণ।
এদিকে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বই থেকে জানাগেছে, ১৯৭১’র মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৮নং সেক্টরের আওতাধীন কলারোয়া উপজেলার ৩৪৩ জন কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। বিজয়ের দশ দিন আগেই ৬ ডিসেম্বর কলারোয়ার মাটি পাক-হানাদারমুক্ত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা কলারোয়া থানা দখল করে সেখানে স্বাধীন দেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে শত্রæমুক্ত করে প্রিয় জন্মভুমিকে। কলারোয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ থেকে ১০টি সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করেছেন। এসময় পাক-বাহিনী এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় গণহত্যা ও সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ মাটিতে পুঁতে রেখে দেয় নরপশু পাক-সেনারা। কলারোয়া উপজেলায় এপর্যন্ত ৯টি গণ কবরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। এরমধ্যে কলারোয়া পৌরসদরে উত্তর মুরারীকাটি পাল পাড়ায় (৯জন), কলারোয়া পাইলট হাইস্কুল ফুটবল মাঠের দক্ষিণে (৫জন), সোনাবাড়ীয়া মঠমন্দির এলাকায় (৩জন) সোনাবাড়ীয়া মোড়ে (৩জন), ভাদিয়ালীতে (৪জন), বামনখালী ঘোষ পাড়ায় (৩জন), চন্দনপুর গয়ড়া বাজারে (২জন), কেঁড়াগাছির বালিয়াডাঙ্গা বাজারে (৭জন) ও পার্শ্ববতী শার্শার জামতলা বাজারের সন্নিকটে (৫ জন)। তবে এসব অধিকাংশই গণকবরই পড়ে আছে অযতœ আর অবেহলায়।
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের মতে, কলারোয়া উপজেলার সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষের গণকবর। যে গুলো সংশিষ্টদের উদাসীনতার কারনে আজও তত্ব-তালাশ হয়নি। এমনকি মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসেও অনেক শহীদদের গণকবরে ফুলে’ল শ্রদ্ধাঞ্জলি জোটেনা। এছাড়া অবহেলা আর অযতেœর কারনে অধিকাংশ গণকবরের অস্তিত্ব প্রায় বিপন্ন। উপজেলার সচেতন মহল অবিলম্বে শহীদদের এসব গণকবর যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও নতুন গণকবর চিহ্নিত করে সংরক্ষন করে নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়া উপজেলার বীরত্বগাঁথা ইতিহাস জানতে সহযোগিতা করার দাবি জানান।
কলারোয়া উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, উপজেলায় শহীদদের গনকবর ও বধ্যভুমিগুলি সংরক্ষন করার জন্য উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বালিয়াডাঙ্গা বধ্যভুমিতে স্বৃতিস্তম্ভ তৈরী এবং কলারোয়া থানার পিছনে (গোপালগঞ্জের ৫ বীর শহীদ) গনকবর টাইলস বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো কয়েটি স্থানে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এছাড়া অতিদ্রæত চিহ্নিত সব গনকবর ও বধ্যভুমি সঠিক ভাবে সংরক্ষন করার ব্যবস্থা করা হবে।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, বীর শহীদদের গনকবর ও বধ্যভুমি সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন ও নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানাতে আমরা কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহন করেছি। যা বাস্তবায়য়িত হলে মহান মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়া উপজেলার সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *