ঢাকাTuesday , 3 March 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে অসহায় বৃদ্ধার সংবাদ সম্মেলন

admin ঢাকা
আপডেট: 3 March 2020, 22:58

ডেস্ক রিপোর্ট : দেবহাটায় প্রভাবশালী কর্তৃক একটি অসহায় ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক তাদের সম্পত্তি দখল এবং মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রামের মুনছুর আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা মোছা. আলেয়া খাতুন এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা অতিশয় দরিদ্র এবং ভূমিহীন পরিবার। আমার স্বামী তার নামে বিগত ১৯৮৯-১৯৯০ সালে সখিপুর মৌজায় ৫১২০ দাগে ২৫ শতক জল মহল ইজারা গ্রহণ করে ভোগদখল পূর্বক মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। যা ২০০৮ সালে কৃষি খাস জমি হিসাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে দেন দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন। যার বন্দোবস্ত নং-১০৩২। কিন্তু একই এলাকার বাবুর আলী গাজীর ছেলে নুর মোহাম্মদ ও রেজাউল গাজী গংরা আমার স্বামীর জল মহলটি হারি দেওয়ার শর্তে গ্রহণ করে হারির টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক ভোগদখল শুরু করে। আমরা জমি বা হারির টাকা ফেরত চাইতে গেলে খুন জখম এবং মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেয়। আলেয়া খাতুন আরো বলেন, আমরা ভূমিহীন হওয়ায় সখিপুর মৌজায় ১নং খতিয়ানে ২০৬৫ দাগে ৩২ শতক সম্পত্তিতে ঘরবাড়ি, গাছপালা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলাম। যার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কেস নং- ৪৫/১০-১১। তারিখ ০২/০১/১৭। দলিল নং- ১৯৭৮। কিন্তু একই এলাকার চিহ্নিত ভূমি-দস্যু ও মামলাবাজ নুর মোহাম্মদ ও রেজাউল গাজী, একই এলাকার মৃত. মোসলেম মল্লিকের ছেলে গফুর মল্লিক, আশার আলো এনজিও’র পরিচালক সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতকারী আব্দুল্লাহ মল্লিকসহ তার সাঙ্গোপাঙ্গ ডাবলু গাজীর ছেলে মাদক সেবী রাজন, মৃত, সবুর আলীর ছেলে মাদকসেবী শরিফ, মৃত. আবু হার কারিকরের ছেলে আকরম কারিকর, মৃত আমিন উদ্দীনের ছেলে সিদ্দিক গাজী, সামছুদ্দিনের ছেলে আজারুল ইসলাম মিলে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুও জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এবিষয়ে দেওয়ানি আদালতে ১৩২/১৮ নং মামলা দায়ের করেন গফুর মল্লিক। মামলায় প্রাথমিক ভাবে আমার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলেও দোতরফা সূত্রে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক রায় আমার পক্ষে আসে। তারা ৩টি মামলা করলেও আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মামলাগুলো আমাদের পক্ষে রায় দেন। এমনকি আদালত বাবুর আলী ও তার দুই ছেলে নুর মোহাম্মদ এবং রেজাউল ইসলামকে মামলাবাজ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার রায় আমাদের পক্ষে থাকার পরও উল্লেখিত মামলাবাজ ও ভূমি-দস্যুরা উক্ত সম্পত্তিতে আমাদের যেতে না দেওয়ায় জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে মাপ জরিপ করার নির্দেশ দিলেও সার্ভেয়ার সাঈদুর রহমান সে নির্দেশ অমান্য করে উল্লেখিত মামলাবাজদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করে আমাদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছে। ফলে দখলদাররা আমাদের উক্ত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা আমাদের ভিটেমাটি ছাড়া করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে খুন জখমসহ মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি একজন অসহায় ভূমিহীন বৃদ্ধা। সরকারের কাছ থেকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে বাসবাস করে আসছি। আমাদের দলিল রয়েছে, আদালতের রায় আমাদের পক্ষে। শুধু টাকা না থাকার কারণে তারা জোরপূর্বক উক্ত সম্পত্তি থেকে আমাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। তিনি উল্লেখিত মামলাবাজ ও ভূমি-দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *